গোলের পর কেন কেঁদেছেন মেসি
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ম্যাচের তখন ১৭ মিনিট। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মেসি নেন জোরালো শট এবং ফল—গোল। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রথম গোল।…
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় টানা তিন দিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তান। একদিকে কাঁটাতারের বেড়া, অন্যদিকে সশস্ত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থান। মাঝখানে খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
পরিবারটি হলো সুমি আক্তার ও তার স্বামী বিল্লাল হোসেন। সঙ্গে রয়েছে চার বছরের কন্যা ফাতেমা এবং পাঁচ মাস বয়সী শিশু সুমাইয়া। গত রোববার ভোর থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার নিরাপদ দূরত্বে কথা হয় সুমি আক্তারের সঙ্গে। ক্লান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, সন্তানদের কষ্টই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো বৃষ্টি। ছোট মেয়েটা ঠিকমতো খেতে পারছে না।
তিনি আরও জানান, বড় মেয়েটি কোনোভাবে রুটি-কলা খেয়ে বেঁচে আছে, আর ছোট শিশুটি এখনো পুরোপুরি দুধনির্ভর হওয়ায় চরম কষ্টে আছে।
পরিবারটির অভিযোগ, তাদের জোর করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আরও কয়েকজনকেও শূন্যরেখায় এনে রেখে গেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
স্থানীয়রা জানান, তিন দিন ধরে শিশুদের নিয়ে এমন অবস্থায় থাকা দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ পানি দিয়ে সহায়তা করছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ছোট শিশুদের এই অবস্থায় রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।
আরেকজন বলেন, সীমান্তে নারী ও শিশুরা এভাবে আটকে থাকা মানবিকতার পরিপন্থি। রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী এক বিজিবি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের খাবার, পানি ও ছাতা দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ভোরে গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে মোট নয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় সেই চেষ্টা প্রতিহত করা হলে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমাধানে বিএসএফের সঙ্গে আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশইন ইস্যু নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জসহ একাধিক সীমান্তে সম্প্রতি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে সাত বাংলাদেশিকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জামালপুরের মধ্যেরচর সীমান্তে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তা সফল হয়নি। ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় স্পষ্ট করতে পারেননি।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, সিলেট, যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।
সব মিলিয়ে রৌমারীর সীমান্তে শিশুদের নিয়ে আটকে থাকা দম্পতির এই ঘটনা নতুন করে মানবিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই পরিবার দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au