কলকাতায় গ্রেপ্তার তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক মন্ত্রী উদয়ন গুহ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা উদয়ন গুহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার কলকাতার ফুলবাগান এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক…
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- চট্টগ্রামে আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সুরতহাল রিপোর্ট এবং উদ্ধার করা আলামত পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী একটি হত্যাকাণ্ড, যা একটি অপরাধভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখে প্রভাবিত হয়ে সংঘটিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে বিষয়টি গুরুত্ব পেলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে নামে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটিয়া মো. আবির। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিপণ আদায় সম্ভব না হওয়ায় আয়াতকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে তার মরদেহ ছয় টুকরো করা হয়। পরে খণ্ডিত মরদেহের বিভিন্ন অংশ সাগরপাড় ও খালের আশপাশের এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর পিবিআই খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করে এবং হত্যার রহস্য উন্মোচন করে।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবিরের পাশাপাশি তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকেও আসামি করা হয়। তবে সে ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার পৃথকভাবে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আয়াতের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দেশের আলোচিত শিশু হত্যা মামলাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au