উগ্রপন্থীদের হুমকিতে থমকে গেল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রীরাম মূর্তির নির্মাণ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশে নির্মাণাধীন দেশের সবচেয়ে বড় শ্রীরাম মূর্তিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৮১ ফুট উচ্চতার এই মূর্তির নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ…
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচিত কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত হয়েছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সংঘাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইরানের অর্থনীতির জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
চুক্তি-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে এই তহবিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুই দেশ আগামী শুক্রবার কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।
প্রস্তাবিত তহবিলটি কোনো সরকারি সহায়তা কর্মসূচি বা ক্ষতিপূরণ তহবিল নয়। এটি হবে সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর একটি আন্তর্জাতিক তহবিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই সমঝোতার আওতায় ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের অর্থ ইরানের জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন, শিল্প ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর, সড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজেও এই অর্থ ব্যয় করা হতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস মজুদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই তহবিল কার্যকর হলে দেশটির শিল্প ও জ্বালানি খাতে নতুন প্রাণসঞ্চার হতে পারে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তহবিলটির ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিনিয়োগ বণ্টনের চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণে সম্মত হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কঠোর তদারকি মেনে নেয়, তাহলে দেশটি এই পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পাবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হবে। এরপর ৬০ দিনের মধ্যে তহবিল পরিচালনাকারীরা ইরান সরকার ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন প্রকল্পের ধরন, অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগ কাঠামো চূড়ান্ত করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেই ভূমিকা রাখবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au