উগ্রপন্থীদের হুমকিতে থমকে গেল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রীরাম মূর্তির নির্মাণ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশে নির্মাণাধীন দেশের সবচেয়ে বড় শ্রীরাম মূর্তিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৮১ ফুট উচ্চতার এই মূর্তির নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ…
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে মার্কিন মেরিন কোরের জন্য একটি ‘যুদ্ধপ্রস্তুত’ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ভিক্টোরিয়ায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ গুদাম ও প্রশাসনিক স্থাপনা নির্মাণে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এই প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বৃহৎ সামরিক পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনার অংশ।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ওকিনাওয়া ও গুয়ামের মতো বড় সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ মহড়াগুলোতে দেখা গেছে, আধুনিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের যুগে এসব বৃহৎ ঘাঁটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চীনের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন মেরিন কোর তাদের অস্ত্র ও সরঞ্জাম এক জায়গায় না রেখে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট কৌশলগত গুদামে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ভিক্টোরিয়ায় নির্মিত নতুন অস্ত্রভাণ্ডার সেই কৌশলেরই অংশ।
একজন মার্কিন মেরিন কোর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।
শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোর পুরোনো বিমানঘাঁটি ও বন্দরগুলোও পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে সংঘাতের সময় বিকল্প সরবরাহ ও মোতায়েন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

ছবিঃ সংগৃহীত
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব নতুন সামরিক স্থাপনাও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউট সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েন চীনা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই উত্তর অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিক্টোরিয়ায় নতুন অস্ত্রভাণ্ডার নির্মাণ শুধু একটি সামরিক প্রকল্প নয়; বরং এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত বাড়ছে, ততই এই অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রবণতা জোরদার হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au