মেলবোর্ন, ২৩ জুন- সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা হলেও সেই অর্থ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। বরং অর্থ ব্যয়ের ওপর কঠোর নজরদারির মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।
রোববার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার যৌথভাবে এমন একটি প্রক্রিয়া তৈরির কাজ করছে, যার মাধ্যমে ইরানের অবমুক্ত হওয়া অর্থ দিয়ে মূলত মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন ইরানের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতও লাভবান হবে।
ভ্যান্স জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার কাতারের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের অবমুক্ত সম্পদের ব্যবহার ও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। সেই অর্থ দিয়ে সয়াবিন, গম ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন মার্কিন কৃষিপণ্য ক্রয় করা হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগকে ‘ট্রাম্প ডিল’-এর আদর্শ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটি এমন একটি পরিকল্পনা, যা একই সঙ্গে মার্কিন কৃষকদের সহায়তা করবে এবং ইরানের সাধারণ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই ভুল তথ্যের কারণে। আলোচনার প্রতিটি ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে বলেও জানান তিনি।
ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোও পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
তবে ইসরাইল এখনো ইরানের প্রতি যেকোনো ধরনের ছাড় বা নমনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেই এগোতে চায়, তবে প্রয়োজন হলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে বিকল্প পদক্ষেপও প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে সেটিই হবে সবার জন্য সবচেয়ে ভালো ফলাফল।”