মেলবোর্ন, ২৩ জুন- সুইজারল্যান্ডে চলমান উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তির বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ওপর আরোপিত তেল রপ্তানি-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের সুযোগ পাবে।
সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) এক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রকাশ করে জানায়, ইরানের তেল উৎপাদন, রপ্তানি ও পরিবহনসংক্রান্ত যেসব লেনদেন এতদিন নিষিদ্ধ ছিল, সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত ইরানি জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে না।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইরানের দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি কাজ করেছে। প্রথমত, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে তেহরান। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে দেশটি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া আলোচনায় ইরানের প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। আলোচনা শুরুর পরপরই ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি লাভ করায় যুক্তরাষ্ট্র এই সাময়িক ছাড় দিয়েছে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। ইরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কি না এবং আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়, তার ওপর ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। ফলে আগামী দুই মাস ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি