গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বরিশাল নগরীতে গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় রাশেদ খান মেনন (৫০) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড…
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করতে যুদ্ধক্ষমতা–সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।
মঙ্গলবার সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা, যদিও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধঘোষণা বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সাংবিধানিক সীমারেখা আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সিনেটে ভোটাভুটির সময় চারজন রিপাবলিকান সদস্য নিজেদের দলের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি এবং কেন্টাকির র্যান্ড পল। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেবল পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের আগে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প প্রশাসন এবং রিপাবলিকান দলের অনেক নেতাই ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা আইন বা ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্টের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, এই আইন প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ সৃষ্টি করে।
তা সত্ত্বেও প্রস্তাবটির অনুমোদন রিপাবলিকান দলের ভেতরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ ইস্যুতে জনমতের নেতিবাচক প্রভাব রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। বিপরীতে অধিকাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন, যুদ্ধবিরতি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পেছনে দুই রিপাবলিকান সিনেটরের অনুপস্থিতিও ভূমিকা রেখেছে। তারা হলেন পেনসিলভানিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক এবং কেন্টাকির মিচ ম্যাককনেল। অতীতে তারা যুদ্ধক্ষমতা–সংক্রান্ত অনুরূপ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন।
ভোটাভুটির আগে সিনেটে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ পররাষ্ট্রনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য এবং প্রস্তাবটির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক গ্রেগ মিকস বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার অধিকার নেই। তিনি জানান, কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে গভীর বিভক্তির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আগামী মাসগুলোতে ইরান নীতি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং কংগ্রেস-হোয়াইট হাউস সম্পর্কের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
সূত্রঃ আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au