‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে হিন্দু যুবক আটক, বাড়িতে হামলা-মন্দিরে ভাঙচুর
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার হামলায় বাড়ি, দোকান ও একটি…
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বিশ্বসঙ্গীতের ইতিহাসে খুব কম শিল্পীই আছেন যারা ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। কলম্বিয়ার গায়িকা, গীতিকার ও নৃত্যশিল্পী শাকিরা তাদের মধ্যে অন্যতম। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি লাতিন সংগীতকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের একটি আলাদা পরিচয় হলো ফিফা বিশ্বকাপের সঙ্গে তার ধারাবাহিক সম্পর্ক এবং একাধিক স্মরণীয় থিম সং, যা তাকে ফুটবলের “সাউন্ডট্র্যাক কণ্ঠ” হিসেবে পরিচিত করেছে।
শুরু যেভাবে
শাকিরার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে। সে আসরে তিনি ফাইনাল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। তখনো তার কোনো অফিসিয়াল থিম সং ছিল না, তবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থিতি তাকে ফুটবল ইভেন্টের পরিচিত মুখ হিসেবে তুলে আনে। সেই পারফরম্যান্সই পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোর জন্য তার দরজা খুলে দেয়।
২০১০ বিশ্বকাপ: ‘ওয়াকা ওয়াকা’ দিয়ে ইতিহাস
শাকিরার সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ মুহূর্ত আসে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ছিল “Waka Waka (This Time for Africa)”, যেখানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যান্ড ফ্রেশলি গ্রাউন্ডের সঙ্গে কণ্ঠ দেন।

শাকিরার সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ মুহূর্ত আসে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ছবিঃ সংগৃহীত
এই গানটি শুধু একটি থিম সং ছিল না, এটি হয়ে ওঠে বৈশ্বিক স্পোর্টস সংস্কৃতির একটি প্রতীক। স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে শাকিরার পারফরম্যান্স দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে। গানটি কোটি কোটি ভিউ, বিক্রি এবং স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড গড়ে। আজও এটি ইতিহাসের সবচেয়ে সফল স্পোর্টস অ্যান্থেমগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
২০১৪ বিশ্বকাপ: ব্রাজিলের মঞ্চে ‘লা লা লা’
২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে শাকিরা আবারও ফিরেন অফিসিয়াল গান নিয়ে। “La La La (Brazil 2014)” গানটি ছিল সেই আসরের দ্বিতীয় অফিসিয়াল ট্র্যাক, যা মূলত তার আগের সফল বিশ্বকাপ উপস্থিতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখে।
এই গানেও লাতিন ছন্দ, ফুটবল আবেগ এবং বৈশ্বিক উৎসবের অনুভূতি তুলে ধরা হয়। ব্রাজিল বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স তাকে আবারও ফুটবল সংস্কৃতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
২০১৮ বিশ্বকাপ: অনানুষ্ঠানিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে শাকিরা কোনো অফিসিয়াল গান না করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রমোশনাল ইভেন্টে অংশ নেন। ফলে টানা তিন বিশ্বকাপে তিনি সরাসরি যুক্ত থাকেন, যা খুব কম শিল্পীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
বিশ্বকাপে শাকিরার প্রভাব
শাকিরার গান শুধু বিনোদনের জন্য তৈরি হয়নি। এগুলোতে থাকে এক ধরনের বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা। আফ্রিকান রিদম, লাতিন বিট এবং পপ মিউজিকের মিশ্রণে তিনি ফুটবলকে একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করেছেন।
বিশেষ করে “Waka Waka” এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় বিশ্বকাপ গানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, বিশ্বজুড়ে স্কুল, পার্টি এবং খেলাধুলার অনুষ্ঠানে নিয়মিত বাজে।

নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে সাকিরার নতুন গান “দাই দাই” ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন অধ্যায়
বর্তমানে শাকিরা আবারও আলোচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে। নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে তার নতুন গান “দাই দাই” ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
গানটি আফ্রো-বিটস ও লাতিন পপের মিশ্রণে তৈরি, যেখানে ফুটবল উন্মাদনা, বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক রং এবং উৎসবের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের “গ্লোবাল ইউনিটি” বার্তাকে আরও শক্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সংগীতজগতে শাকিরার উত্থান যেভাবে
শাকিরার জন্ম ১৯৭৭ সালে কলম্বিয়ার বারানকিয়ায়। তার পূর্ণ নাম শাকিরা ইসাবেল মেবারাক রিপোল। ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতা লেখা ও গান তৈরিতে আগ্রহী ছিলেন।
প্রথম দুটি অ্যালবাম বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও তিনি থেমে যাননি। ১৯৯৫ সালে “Pies Descalzos” অ্যালবাম তাকে লাতিন আমেরিকার তারকায় পরিণত করে।
এরপর ২০০১ সালে “Whenever, Wherever” তাকে বৈশ্বিক পরিচিতি দেয়। ২০০৬ সালে “Hips Don’t Lie” গানটি বিশ্বব্যাপী বিশাল হিট হয় এবং তাকে পপ সংগীতের শীর্ষে নিয়ে যায়।
এই সময় থেকেই শাকিরা লাতিন সংগীতকে মূলধারার আন্তর্জাতিক পপ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
শাকিরার বিশ্বকাপ যাত্রা শুধু গান গাওয়ার গল্প নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রভাবের ইতিহাস। তিনি ফুটবলকে শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে একটি বিশ্বব্যাপী উৎসবের রূপ দিয়েছেন।
তাই শাকিরাকে অনেকেই আজও মনে করেন “ফুটবলের সুরের মুখ”, যার কণ্ঠ বিশ্বকাপের আবেগকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au