মোংলায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, নারী-পুরুষসহ ৭ জন আহত
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- মোংলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী-পুরুষসহ সংখ্যালঘু এক পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের…
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার হামলায় বাড়ি, দোকান ও একটি মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার(২৩ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গড়কাটি গ্রামের নিখিল রায়ের ছেলে দীপ্ত রায় (বয়স ২৫) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে আলোচনায় আসেন। অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিকেলে বাদাঘাট বাজার এলাকা থেকে পুলিশ কৌশলে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় বাজারে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর এক পর্যায়ে উত্তেজিত একটি অংশ মিছিল নিয়ে তার বাড়ির দিকে অগ্রসর হয় এবং বাড়ি, পারিবারিক দোকান ও স্থানীয় একটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীপ্ত রায় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টে মন্তব্য করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বাজার এলাকায় বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে একটি দোকান থেকে হেফাজতে নেয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে মিছিলকারীদের একটি অংশ ঐ যুবকের গ্রামে গিয়ে মন্দির ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মন্দির ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হলে পুলিশকে সহায়তা করে যুবকটিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কিছু মানুষ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তবে স্থানীয়ভাবে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন না ঘটে সে জন্য এলাকায় কঠোর নজরদারি ও পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au