রেকর্ড তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার পরিবার
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়েছে ফ্রান্স। অতিরিক্ত গরমের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দেশটির…
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে যুবলীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তারের মাত্র এক দিন পর বুধবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও তার পরিবারে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত নুরুল আলম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ২০২৪ সালে সাতকানিয়া থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলার আসামি ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে সাতকানিয়া থানায় নিয়ে যায়। পরে আদালতের মাধ্যমে বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে নেওয়ার পর তাকে আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, বুধবার সকালে নুরুল আলম হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তিনি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কথা জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা সূত্র জানায়, মৃত্যুর সনদে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, নুরুল আলমকে কারাগারে আনার সময় তিনি স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিলেন। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রাতেও তিনি কোনো শারীরিক সমস্যার কথা জানাননি। সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে নুরুল আলমের পরিবার তার গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন দাবি করেছে। তার ভাই নূর মোহাম্মদ বলেন, এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মঙ্গলবার সাতকানিয়া ভূমি অফিসে ওই জমি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন নুরুল আলম। সেখান থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে।
নূর মোহাম্মদের দাবি, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় মামলা ছিল না এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর এত দ্রুত তার মৃত্যু হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।”
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। থানায় থাকা অবস্থায় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। আদালতের নির্দেশে বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে নুরুল আলমের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au