বিরতির পর ফের বাংলাদেশে ভারতীয় রেল কোচ, জুলাইয়ে আসছে প্রথম চালান।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ভারত থেকে আবারও যাত্রীবাহী রেল কোচ আমদানি শুরু হচ্ছে। আগামী জুলাই মাসে প্রায় ২০টি ব্রড-গেজ যাত্রীবাহী রেল কোচের প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কিছুদিন স্থবির থাকা প্রকল্পটি আবারও গতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এর পর এই প্রথম বাংলাদেশে ভারতীয় রেল কোচ রপ্তানি হতে যাচ্ছে। বিষয়টিকে দুই দেশের চলমান অবকাঠামোগত সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি সংস্থা রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিস (আরআইটিইএস) বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রড-গেজ যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণ ও সরবরাহের কাজ করছে। কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি হচ্ছে।
প্রকল্পটির মোট মূল্য প্রায় ৯১৫ কোটি রুপি। ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের চুক্তি ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আরআইটিইএসের হাতে আসে। সেই চুক্তির আওতাতেই নতুন কোচগুলো বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে।
ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির অধীনে প্রথম রেক বা কোচের চালান জুলাই মাসেই প্রস্তুত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে হস্তান্তর ও পরিবহন প্রক্রিয়া নিয়ে সমন্বয় চলছে।
এর আগে ভারত বাংলাদেশকে ১২০টি ব্রড-গেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৩৬টি ব্রড-গেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটার-গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। নতুন চালান যুক্ত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, কোচ সরবরাহের পাশাপাশি আরআইটিইএস বাংলাদেশ রেলওয়েকে প্রযুক্তিগত সহায়তা, নকশা পরামর্শ, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং জনবল প্রশিক্ষণও প্রদান করবে। প্রকল্পের জন্য ৩৬ মাসের সরবরাহ ও কমিশনিং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কোচগুলো হস্তান্তরের পর আরও ২৪ মাসের ওয়ারেন্টি সুবিধা থাকবে।
আরআইটিইএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল বলেছেন, বাংলাদেশে রেল কোচ সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়া তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অর্থবছরে এ প্রকল্প থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জনের আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় স্বাভাবিক হওয়ায় প্রকল্পটি আবারও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কোচ যুক্ত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে আধুনিক যাত্রীবাহী বগির সংখ্যা বাড়বে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার ট্রেনসেবার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।