ভারতের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি ভবনের ছাদধসে অন্তত তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি বহুতল ভবনের ছাদ ধসে অন্তত তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় আরও কয়েক ডজন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনতলা বিশিষ্ট নির্মীয়মাণ ভবনটিতে নির্মাণকাজ চলছিল। ওই সময় হঠাৎ করেই ভবনের একটি বড় অংশ এবং ছাদের কাঠামো ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। তারা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ছয় থেকে সাতজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু শ্রমিক আটকা থাকতে পারেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৪০ জনের বেশি শ্রমিক ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে জরুরি প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ভবনের নির্মাণমান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জীবিতদের উদ্ধারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করতে দিনভর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটি দ্রুতগতিতে নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করতেন। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা শোকাহত হয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
সুত্রঃএনডিটিভি