সাদা-কালো পতাকায় সয়লাব দেশ, নেপথ্যে কারা? অর্থ কারা দিচ্ছে?
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে।…
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির গ্রিনস দলের সিনেটর পিট হুইশ-উইলসন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বিত ভুয়া তথ্য প্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার জনগণকে সতর্ক করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে পিট হুইশ-উইলসন বলেন, মাত্র নয় মাসের মধ্যে জনমত জরিপে ওয়ান নেশনের সমর্থন প্রায় ৬ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো দলের জনপ্রিয়তার এমন উল্লম্ফন নজিরবিহীন।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, জনমত জরিপের ফলাফল নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। বরং তিনি জানতে চান, দীর্ঘদিন ধরে একই রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা একটি দলের সমর্থন এত দ্রুত কীভাবে কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ বড় দুটি রাজনৈতিক দল থেকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, রাজনীতির প্রতি তাঁদের অসন্তোষও রয়েছে। কিন্তু ওয়ান নেশনের এই দ্রুত উত্থান স্বাভাবিক রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বাইরে। এর পেছনে যদি বড় পরিসরের কোনো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বা প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পিত অভিযান থাকে, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এবিসি নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের অজ্ঞাত ওয়েবসাইট থেকে শত শত রাজনৈতিক পোস্ট ছড়ানো হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহে এমন প্রায় ৪০০টি পোস্ট শনাক্ত করা হয়, যার অনেকগুলোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা।
এসব পোস্টের বেশির ভাগে ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসনকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোথাও তাঁকে হাসপাতালে অসুস্থ শিশুদের অর্থ সহায়তা করতে দেখা গেছে, কোথাও আবার তাঁকে ক্যানসারে আক্রান্ত বলে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি একটি ছবিতে তাঁকে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল, “আপনারা কি আমাকে ভালোবাসেন?” এর জবাবে অসংখ্য ব্যবহারকারী “হ্যাঁ” এবং “আমরা আপনাকে ভালোবাসি” মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া ভুয়া পোস্টে সিনেটর ফাতিমা পেম্যানকে নিয়ে কল্পিত ‘ওয়ান্টেড’ পোস্টার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের মৃত্যুর ভুয়া ঘোষণাও ছড়ানো হয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. রাহাত মাসুদ বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বটগুলো এতটাই উন্নত হয়েছে যে সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর আচরণও তারা নিখুঁতভাবে অনুকরণ করতে পারে। ফলে এমন বট শনাক্ত করা এখন অনেক কঠিন।
তিনি বলেন, একটি ল্যাপটপ এবং ভালো কৌশল থাকলেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো সম্ভব। আবার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও এ ধরনের প্রচারণা পরিচালনা করা হতে পারে।
ড. রাহাত মাসুদের মতে, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে যদি এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়, তাহলে তা নির্বাচনের ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষ যদি বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সচেতন না হয়, তাহলে তারা সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভোট দেবে এবং এর পরিণতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।
এবিসির সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এখন পর্যন্ত যা শনাক্ত হয়েছে, তা হয়তো বৃহত্তর বিদেশি প্রভাব বিস্তার অভিযানের কেবল শুরু।
তবে এই প্রচারণার উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। সিনেটর পিট হুইশ-উইলসন বলেন, এটি হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম থেকে অর্থ আয়ের জন্য পরিচালিত প্রচারণা, আবার কোনো বিদেশি শক্তির পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও হতে পারে।
অন্যদিকে ওয়ান নেশনের প্রধান উপদেষ্টা জেমস অ্যাশবি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দলটি কখনো নিজেদের পোস্ট প্রচারে অর্থ ব্যয় করেনি বা অনুসারী কিনেনি। তাঁর দাবি, পলিন হ্যানসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি অনুসারী প্রকৃত ব্যক্তি এবং তাঁদের প্রত্যেকেরই বাস্তব ভোটাধিকার রয়েছে।
সূত্রঃ News.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au