চীনে লাইভ সম্প্রচারের সময় ৮ বাংলাদেশি সাংবাদিক আটক। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর কভার করতে গিয়ে বেইজিংয়ে স্থানীয় পুলিশের হাতে আটকের মুখে পড়েছেন আটজন বাংলাদেশি সাংবাদিক। চীনের সম্প্রচার ও জনপরিসরে ভিডিও ধারণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হলেও পরে বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপে মুচলেকার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর উপলক্ষে শতাধিক বাংলাদেশি সাংবাদিক বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন এবং সরকারি কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার ও সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছেন তারা।
জানা গেছে, গত ২৩ জুন বেইজিংয়ের একটি ব্যস্ত সড়কে নির্ধারিত মিডিয়া জোনের বাইরে কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক লাইভ সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও ভাষাগত সমস্যার কারণে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় পুলিশ এসে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে এবং লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।
চীনের স্থানীয় আইন অনুযায়ী, অনেক জনপরিসরে ভিডিও ধারণ বা সরাসরি সম্প্রচারের জন্য আগাম সরকারি অনুমতি প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট অনুমতি ছাড়া কিছু এলাকায় সম্প্রচার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত। পুলিশ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওই বিধিনিষেধ অমান্যের অভিযোগ আনে।
আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন স্টার নিউজের জাকারিয়া, চ্যানেল ওয়ানের রাহি, একাত্তর টেলিভিশনের শফিকুল হক, যমুনা টেলিভিশনের আরেফিন শাকিল, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জাহানারা পারভীনসহ আরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটক হওয়া এক সাংবাদিক জানান, তারা বেইজিংয়ের একটি সড়কে লাইভ সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগে ভাষাগত সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ এসে কয়েকজনকে হাত বেঁধে পুলিশ ভ্যানে তোলে এবং বাকিদেরও স্থানীয় থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাদের পেশাগত পরিচয়, সফরের উদ্দেশ্য, সংবাদমাধ্যমের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। দূতাবাসের কর্মকর্তারা থানায় গিয়ে সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলার অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার পর তাদের মুক্ত করা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, ঘটনাটি বড় ধরনের আইনি জটিলতায় না গড়ালেও বিদেশ সফরে দায়িত্ব পালনকারী গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বিশেষ করে সরকারি সফর কভার করতে গিয়ে স্বাগতিক দেশের গণমাধ্যম নীতিমালা, সম্প্রচারবিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে আগে থেকেই সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সফরে সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধের প্রতি সম্মান দেখানোও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। অন্যথায় সামান্য অসতর্কতাও অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।