কমছে করপোরেট কর, ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে ৩০ জুন জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শর্তসাপেক্ষে…
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে কানাডা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্টিভেন ইউস্টাকিওর দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। নাটকীয় এই জয়ে প্রথমবার নকআউট পর্ব খেলতে নেমেই শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল কানাডা।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথম লড়াই। একই সঙ্গে এটি ছিল কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দলেরই বিশ্বকাপে প্রথম নকআউট ম্যাচ। এর আগে একাধিকবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কোনো দলই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। এবার প্রথমবার নকআউটে উঠে দুই দলই নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে।
শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে কানাডা। বলের দখলে খুব বেশি এগিয়ে না থাকলেও আক্রমণে ছিল তারা অনেক বেশি কার্যকর। প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল জেসি মার্শের দল।
কর্নার থেকে তৈরি হওয়া কয়েকটি সুযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার দৃঢ় রক্ষণভাগ প্রতিহত করে। ৪৪তম মিনিটে ময়জে বমবিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন অব্রে মদিবা। ফিরতি বলে তেজন বুকানানের জোরালো শটও দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস।
বিরতির ঠিক আগে রিচি লারিয়াকে প্রতিপক্ষের বক্সে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে কানাডা। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও পেনাল্টি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ। মাঠ ছাড়ার সময়ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই নিজেদের রক্ষণভাগ শক্ত করে অতিরিক্ত সময়ের দিকে ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার কৌশল নেয়। অধিকাংশ খেলোয়াড় নিজেদের অর্ধে রেখে কানাডার একের পর এক আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করে তারা।
এ সময় কানাডার তানি ওলুওয়াসেয়ি একবার একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও উইলিয়ামস অসাধারণ দক্ষতায় গোল রক্ষা করেন। ফিরতি বলে জনাথন ডেভিডের শটও এমবেকেজেলি এমবোকাজির গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপে প্রতিহত হয়।
মাঝপথে চোট কাটিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন কানাডার তারকা আলফন্সো ডেভিস। তার উপস্থিতিতে কানাডার আক্রমণে কিছুটা গতি এলেও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি দলটি।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর রেফারি পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াবে। কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই আসে কানাডার বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত।
অ্যালিস্টার জনস্টনের ক্রস দক্ষিণ আফ্রিকার এক ডিফেন্ডার হেড করে বক্সের বাইরে পাঠিয়ে দিলে সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন স্টিভেন ইউস্টাকিও। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে কোনো সময় নষ্ট না করে নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। ডান দিকে ঝাঁপ দিয়েও সেই শট ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক উইলিয়ামস। পুরো ম্যাচে পাঁচটি দুর্দান্ত সেভ করলেও শেষ মুহূর্তে দলকে আর রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল কানাডা। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আগামী ৪ জুলাই তারা মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কোর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au