চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
অস্ট্রেলিয়া আগামী ৩ মে ফেডারেল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ শুক্রবার ক্যানবেরায় গভর্নর জেনারেলের সাথে বৈঠক করে এই তারিখ ঘোষণা করেন। তার লেবার পার্টি বর্তমানে সংসদে তিনটি আসনের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের দুটি প্রধান দল—লেবার ও লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন—এর মধ্যে প্রতিযোগিতা খুবই কম ব্যবধানে থাকতে পারে। এমনকি কোনো দলই পুরোপুরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে নাও পারে, ফলে স্বতন্ত্র বা ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হতে পারে। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলো রেকর্ড ভোট পেয়েছিল।
এই নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় (কস্ট অফ লিভিং) প্রধান ইস্যু হবে। ভোটারদের প্রধান চিন্তা হলো বাসস্থান ও দৈনন্দিন পণ্যের দাম, স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা। এছাড়া, রেকর্ড পরিমাণ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ কমাতেও জনগণের চাপ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধেও অনেক অস্ট্রেলিয়ান সচেতন, যা গত নির্বাচনেরও বড় ইস্যু ছিল।
আলবানিজ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এরই অংশ হিসেবে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখানোর সুবিধা বাড়ানো ও ছোট কর ছাড়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিরোধী দলীয় নেতা পিটার ডাটনকে নির্বাচিত করা হলে দেশ পিছিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় নেতা ডাটন দাবি করেছেন, তার দলই ভোটারদের প্রধান সমস্যার সমাধান দিতে পারে। তিনি অপরাধ দমন ও অর্থনীতি সচল করে অস্ট্রেলিয়াকে “সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার ও লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশনের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়। সংসদের নিম্নকক্ষে (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ) ১৫০টি আসনের মধ্যে যেকোনো দলকে অন্তত ৭৬টি আসন পেতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য।
দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ আলবানিজ ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসেন, যখন গত এক দশকে অস্ট্রেলিয়া রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছিল—মাত্র আট বছরে ছয়বার প্রধানমন্ত্রী বদল হয়েছিল। তিনি ঐক্য ও সততার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং “জলবায়ু যুদ্ধের অবসান” ঘোষণা করেছিলেন।
তার সরকার নির্গমন কমানোর লক্ষ্য বাড়িয়ে আইন পাস করেছে এবং বড় কার্বন নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্বন সীমা নির্ধারণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কিন্তু আদিবাসী অ্যাবরিজিনাল ও টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডারদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সংসদীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের লক্ষ্য ২০২৩ সালের গণভোটে ব্যর্থ হয়। এছাড়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আলবানিজি চাপের মুখে রয়েছেন। গত বছর একই কারণে বিশ্বের কয়েকটি সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে।
গত বছর জাতীয় আবাসন সংকটের মধ্যেই আলবানিজ ৪.৩ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনে সমালোচনার শিকার হন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au