মেলবোর্ন,৩০ জুন- কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক সামরিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল থেকে যুদ্ধাস্ত্র ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও কাতার। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশই ইসরায়েলি প্রযুক্তিনির্ভর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য অত্যাধুনিক কম্পিউটারাইজড হেলমেট ও নাইট ভিশন সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। যদিও এসব সরঞ্জাম সরাসরি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হারেৎজ জানায়, কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহৃত ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে তিনটিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস-এর তৈরি ‘সি-মিউজিক’ (C-MUSIC) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিদেশে রক্ষণাবেক্ষণের সময় এসব বিমানে প্রযুক্তিটি সংযোজন করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে স্বাক্ষরিত এফ-১৫কিউএ যুদ্ধবিমান ক্রয়চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপঠিকাদারি কাজ পায়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে কাতার ১৬০টি জেএইচএমসিএস (জয়েন্ট হেলমেট-মাউন্টেড কিউয়িং সিস্টেম) হেলমেট সংগ্রহ করে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় দুই লাখ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি দেশটি ইসরায়েলি প্রযুক্তির এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিশন গগলসও সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে হারেৎজ জানায়, মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির আওতায় সৌদি আরবও ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটি ৪৫২টি উন্নত কম্পিউটারাইজড হেলমেট এবং ৪৬২টি নাইট ভিশন গগলস সংগ্রহ করে। বিভিন্ন উন্মুক্ত ভিডিও ফুটেজে সৌদি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত এসব সরঞ্জাম দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের এই তথ্য নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার কিংবা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।