রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর ভিসা ফি বাড়াল অস্ট্রেলিয়া। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- অস্ট্রেলিয়া সরকার বিভিন্ন ধরনের ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা আবেদনকারীদের ওপর। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ফি অনুযায়ী, এ ভিসার নবায়ন ফি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, পার্টনার এবং নিউজিল্যান্ড পরিবারভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা প্রথম বা দ্বিতীয়বার নবায়নের জন্য আবেদনকারীদের এখন এক হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার পরিশোধ করতে হবে। আগে একই ভিসা নবায়নের জন্য ৬৭০ ডলার ফি দিতে হতো। অর্থাৎ এক লাফে ৩৩০ ডলার বেড়েছে, যা প্রায় ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
এ ছাড়া প্রথমবার ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার জন্য আবেদনকারীদের এখন ৮৪০ অস্ট্রেলীয় ডলার দিতে হবে। অথচ ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এ ভিসার আবেদন ফি মাত্র ২০ ডলার বাড়ানো হয়েছিল। এবার তুলনামূলকভাবে অনেক বড় বৃদ্ধি কার্যকর হলো।
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি তরুণদের ভ্রমণের পাশাপাশি কাজের সুযোগ করে দেওয়া ওয়ার্কিং হলিডে কর্মসূচির জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি এ কর্মসূচির আওতায় রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ভিসা অনুমোদন দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য চুক্তির ফলে এ সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা আঞ্চলিক এলাকা বা কৃষি খাতে কাজ করার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সর্বোচ্চ তিন বছরের ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৯ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক এ ভিসা পেয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের ৪৭ হাজারের তুলনায় অনেক বেশি।
শুধু ওয়ার্কিং হলিডে ভিসাই নয়, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফিও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে শিক্ষার্থী ভিসার জন্য দুই হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার দিতে হতো, এখন তা বেড়ে দুই হাজার ৫০০ ডলার হয়েছে।
একইভাবে পার্টনার ভিসার আবেদন ফি ৯ হাজার ৩৬৫ ডলার থেকে বেড়ে ১১ হাজার ৭১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ফি বৃদ্ধি হয়েছে নিউজিল্যান্ড পরিবারভিত্তিক ভিসায়। এ ভিসার আবেদন ফি ৪৪৫ ডলার থেকে বেড়ে এক হাজার ৩৩০ ডলারে পৌঁছেছে। এই ভিসার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ বছর পর্যন্ত বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।
এ ছাড়া বিভিন্ন দক্ষ কর্মীভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও নতুন বেতনসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশজুড়ে গড় বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বেতন বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
সরকারের এই পদক্ষেপে বিদেশি শিক্ষার্থী, কর্মপ্রত্যাশী এবং পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রত্যাশীদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ জনশক্তি নির্বাচনে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে বিষয়টিকে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।