এতদিন কোথায় ছিল খামেনির লাশ
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পিছিয়ে দেওয়া…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ভারত ভ্রমণের কয়েক বছর পর এক ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী শনাক্ত হওয়ার বিরল ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অজানা অসুস্থতায় ভোগার পর উন্নত চিকিৎসা পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে অসংখ্য পরজীবীর উপস্থিতি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা এবং একজন চিকিৎসকের পুরো কর্মজীবনে এমন রোগী খুব কমই দেখা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা লোরি ডেনম্যান ২০০৭ সালে প্রায় তিন মাসের জন্য ভারত সফরে এসেছিলেন। সফরের সময় তিনি স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সচেতনভাবে কোনো ধরনের মাংস খাননি। কিন্তু দেশে ফেরার কয়েক বছর পর, ২০১০ সালে তিনি হঠাৎ একটি অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হন। একটি রেস্তোরাঁর টয়লেট ব্যবহার করার সময় তার শরীর থেকে প্রায় এক মিটার দীর্ঘ একটি ফিতাকৃমি বেরিয়ে আসে। তখন বিষয়টি সাধারণ পরজীবী সংক্রমণ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল।
তবে ২০১১ সালে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। লোরি প্রথমবারের মতো খিঁচুনি বা মৃগীরোগের মতো উপসর্গে আক্রান্ত হন। এরপর চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কের স্ক্যান করলে দেখা যায়, সেখানে ৩৮টি পরজীবী বাসা বেঁধেছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লোরি বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন খবর শোনার পর তিনি এবং তার মা দুজনই হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। মানুষের মস্তিষ্কে এতগুলো পরজীবী থাকতে পারে, তা তারা কল্পনাও করেননি।
চিকিৎসকদের তদন্তে ধারণা করা হয়, ভারত সফরের সময়ই তিনি শুকরের ফিতাকৃমির (পর্ক টেপওয়ার্ম) আণুবীক্ষণিক ডিমের মাধ্যমে সংক্রমিত হন। যদিও তিনি মাংস খাননি, তবুও দূষিত পানি, কাঁচা শাকসবজি বা আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে খাবারে মিশে যাওয়া পরজীবীর ডিম তার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সংক্রমণে মানুষ নিউরোসিস্টাইসারকোসিস নামে পরিচিত একটি গুরুতর রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এতে পরজীবীর ডিম অন্ত্রে প্রবেশ করে রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে ছোট ছোট সিস্ট বা থলি তৈরি করে। এই রোগ বিশ্বজুড়ে খিঁচুনি বা মৃগীরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত।
লোরির চিকিৎসায় অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ ও স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। তবে চিকিৎসার সময় পরজীবীগুলো ধ্বংস হতে শুরু করলে মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে তিনি শরীর অবশ হয়ে যাওয়া, সুই ফোটার মতো অনুভূতি, তীব্র উদ্বেগ, মানসিক বিকার, প্যানিক অ্যাটাক এবং বিষণ্নতায় ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে প্রায় ছয় মাস নিউরোসাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০১৭ সালের পর থেকে তার আর কোনো খিঁচুনি হয়নি। ২০২২ সালে তিনি আবার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে আসেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ওষুধের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ৩৮টি পরজীবী ও তাদের ডিম ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো ক্যালসিফাইড বা শক্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, তাই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। তবে ভবিষ্যতে খিঁচুনির ঝুঁকি এড়াতে তাকে সারাজীবন মৃগীরোগের ওষুধ সেবন করতে হবে।
লোরির প্রধান চিকিৎসক ডা. ব্র্যান্ডন হিলি বলেন, এটি অত্যন্ত বিরল একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঘটনা। তার ভাষায়, একজন চিকিৎসকের পুরো পেশাজীবনে এমন রোগী হয়তো একবারই দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি গ্রহণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিদেশ ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এ ধরনের পরজীবী সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au