মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার নিজস্ব কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকে মরদেহটি কঠোর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে ফরেনসিক মর্গের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অবশেষে ১৩১ দিন পর শুক্রবার (৩ জুলাই) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
ইরানি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর পরপরই দেশজুড়ে যুদ্ধাবস্থা এবং অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গত জুন মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে শেষকৃত্যের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ইরান।
ইসলামী শরিয়তে সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দাফনের বিধান থাকলেও যুদ্ধকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করার সুযোগ রয়েছে। এ কারণে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হিমাগারে খামেনির মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, শিয়া ইসলামি আইন অনুযায়ী যুদ্ধাবস্থায় এমন ব্যবস্থা গ্রহণ বৈধ হওয়ায় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও কোনো বাধা ছিল না।
নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষকৃত্যের পুরো আয়োজন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হয়েছে। ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী পদদলনের মতো ঘটনা এড়াতে ইরানি কর্তৃপক্ষ কঠোর নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির ওই বিমান হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। তাদের মরদেহও একই সময় হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
শুক্রবার খামেনি ও তার স্বজনদের কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। এরপর ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে এক সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই খামেনির নিজ শহর মাশহাদে অবস্থিত পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে। এর মধ্য দিয়েই ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতার দীর্ঘ বিলম্বিত শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।