অস্ট্রেলিয়া ফেডারেল পুলিশ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার এক নাগরিকের বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। অভিযোগসংবলিত ৬১ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত নথি অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস (এসিআইজে) পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসিআইজের আইনজীবী ও গবেষকদের একটি দল এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর এই অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অভিযুক্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিকের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামরিক প্রয়োজন ছাড়াই তিনি বেসামরিক আবাসিক ভবন ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর এসব হামলার ধরন থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া যায় যে, বেসামরিক সম্পত্তির ওপর আক্রমণ ছিল ব্যাপক, পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসিআইজের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান আইনজীবী রাওয়ান আরাফ বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং তারা বিশ্বাস করেন, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য অস্ট্রেলিয়া কোনোভাবেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না। তিনি আরও জানান, এটি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া এমন অভিযোগের প্রথমটি, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা এসিআইজের দেওয়া নথি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে অভিযোগগুলো অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ আইন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আলোকে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি সংস্থাটি।
এদিকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর কয়েকজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইসরায়েলে গিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য ছিল। নথি অনুযায়ী, চারজন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্স প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় কয়েক দশক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা সীমিত হয়ে পড়ায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও গাজায় বিচ্ছিন্ন সামরিক হামলা অব্যাহত আছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।