চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী আগমন কমেছে ৪১ শতাংশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৮৮৪ জন অনিয়মিত অভিবাসী ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৯৮২ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা ৮ হাজারের বেশি কমেছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন ১৩ হাজার ৪৮৯ জন অভিবাসী। সেই তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে আগমন কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ।
সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও জনমত জরিপে দলটি কয়েক মাস ধরে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের পিছিয়ে রয়েছে।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব গ্রহণের পর মানবপাচারকারী চক্র ভেঙে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তার সরকারের মেয়াদকালে ২০২৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা ২০১৮ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০১৮ সালের পর থেকেই ছোট নৌকায় চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এরই মধ্যে কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে লেবার পার্টির নেতা ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে গত ৩০ জুন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ উত্থাপিত ওই প্রস্তাবের লক্ষ্য অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা।
প্রস্তাবিত আইনে শরণার্থী মর্যাদাকে স্থায়ী না রেখে অস্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের প্রয়োগ সীমিত করা এবং আধুনিক দাসত্ববিষয়ক আইন সংশোধনেরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব পরিবর্তনের ফলে যাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের আইনি আপিলের সুযোগ সীমিত হবে এবং ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত নৌকার যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের গুদামগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে সম্মত হয়েছে জার্মানি। পাশাপাশি অনিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী ইরাকের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্রান্সের সঙ্গে তিন বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাজ্য। চুক্তির আওতায় ছোট নৌকা যেসব সৈকত থেকে যাত্রা শুরু করে, সেখানে টহল ও নজরদারি জোরদারের জন্য ফ্রান্সকে ৬৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ কোটি ১০ লাখ ইউরো আর্থিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা কমবে এবং ইংলিশ চ্যানেল হয়ে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা আরও হ্রাস পাবে।