চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী আগমন কমেছে ৪১ শতাংশ
মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায়…
মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা অনুষ্ঠানের মধ্যেই তেহরানকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে এবং জানাজা পালনের জন্য দেশটিকে “এক সপ্তাহের ছুটি” দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা ইরানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি। তারা এখন একটি সমঝোতায় আসার জন্য ভীষণ মরিয়া। আমরা জানাজার জন্য তাদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি।”
তবে “এক সপ্তাহের ছুটি” বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্ব ও দেশটির পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরতেই তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক উত্তেজনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এবং রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সময়েই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দ্রুত দাফন সম্ভব না হওয়ায় ইরানি কর্তৃপক্ষ জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পিছিয়ে দেয়। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির পর রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এদিকে তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শোক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি জাতির প্রতিশোধের বার্তা যেন পুরো বিশ্ব শুনতে পায়।
একই অনুষ্ঠানে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি বলেন, দেশের শহীদ নেতা এবং অন্যান্য নিহতদের রক্তের মূল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দিতে হবে। তার এ বক্তব্যকে ভবিষ্যতে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা এখনো কাটেনি। উভয় পক্ষই সতর্ক করে দিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে।
এ অবস্থায় ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এবং ইরানি নেতাদের পাল্টা কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au