ব্যারিস্টার ফুয়াদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ জুলাই- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তাঁকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে জমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার ই-মেইলের মাধ্যমে শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের কাছে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ফ্যাসিস্ট, টাউট ও ক্রিমিনাল তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’ নোটিশে দাবি করা হয়, এ বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এমন মন্তব্য দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখো বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, মানসিক কষ্ট ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
আইনি নোটিশে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তিনি ১ জুলাই দেওয়া বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ক্ষমা চাইবেন। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলে জমা দিতে হবে, যাতে সেই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা যায়।
নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে অথবা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।