মেলবোর্ন, ৪ জুলাই- চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত আলোচনা ঘিরে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো অগ্রগতি তারা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমবিসি) নিয়ে বেইজিংয়ের প্রস্তাব ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা আমাদের অঞ্চলের এ ধরনের সব ধরনের ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করি।”
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়েও ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ দুই দেশের পারস্পরিক সম্মত রোডম্যাপ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এসব প্রকল্প নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই ভারত ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীন তিস্তা নদীসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।
এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে সিন্ধু পানি চুক্তি প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, পাকিস্তানের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থনের কারণে চুক্তিটি স্থগিত রয়েছে এবং এ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। তার ভাষায়, পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।