মেলবোর্ন, ৪ জুলাই- ঘানায় চলতি সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৪ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বন্যার কারণে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আনাদোলু এজেন্সির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ জানায়, ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক রিচার্ড আমো ইয়ার্তে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজধানী আক্রায়। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযানে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে রিচার্ড আমো ইয়ার্তে বলেন, উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ঘানার সাতটি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোট ৮৯ হাজার ৭৩৬ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রেটার আক্রা অঞ্চল, যেখানে ৫৪ হাজার ৭১২ জন মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এছাড়া সেন্ট্রাল অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৮২ জন। ভোল্টা, ওয়েস্টার্ন, আশান্তি এবং ওয়েস্টার্ন নর্থ অঞ্চলও বন্যার তীব্র প্রভাবের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইস্টার্ন অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও সেখানেও বহু মানুষ বন্যার দুর্ভোগে পড়েছেন।
ঘানার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান, পুনর্বাসন এবং ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে, যাতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।