মেলবোর্ন, ৪ জুলাই- ইউরোপজুড়ে জুন মাসের তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে অন্তত ৩ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশগুলোর স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ এখনো চলমান থাকায় চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২০ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জলবায়ুগত দুর্যোগ। এই সময় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়, বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের চরম তাপপ্রবাহের পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তাদের ধারণা।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, শুধু ফ্রান্সেই তাপপ্রবাহ চলাকালে ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশের বয়স ৪৫ বছরের বেশি। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯১ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সময়ে নার্সিং হোম ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা প্রাথমিক হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি। এছাড়া ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
নেদারল্যান্ডসেও তাপপ্রবাহের প্রভাবে শত শত অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তবে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে।