চীনের ‘জুতার রাজধানী’ জিনজিয়াংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই- চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের একটি জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেক মানুষ আহত…
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার ও বান্দরবানে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বান্দরবানের লামা উপজেলার বাসিন্দা এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় একই পরিবারের দুই শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত একজন। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে একই পরিবারের দুই শিশু নিহত হয়। স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশু দুটিকে এবং তাদের মাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুই শিশুর পরিচয় জানা না গেলেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে, একই দিন ভোরে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে। পাহাড়ধসে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিনজন মাটিচাপা পড়ে নিহত হন। তারা হলেন মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একতলা পাকা ঘরে ঘুমিয়ে থাকা স্বামী-স্ত্রী মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটি ও দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লামার একই এলাকায় পৃথক দুই পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জেলা পুলিশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু বাসিন্দা এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে লামা উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au