চীনের ‘জুতার রাজধানী’ জিনজিয়াংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই- চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের একটি জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেক মানুষ আহত…
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আন্তদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ পুলিশপ্রধানদের পঞ্চম সম্মেলন ‘ইউএনকপস-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
দুই দিনব্যাপী (৭ ও ৮ জুলাই) এই সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পুলিশপ্রধান, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তদেশীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
সম্মেলনের প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং আন্তদেশীয় অপরাধী চক্রগুলোর বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি স্থায়ী ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম শীর্ষ সৈন্য ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশ। ভবিষ্যতের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (এফপিইউ) আধুনিক ও দক্ষ বাহিনীতে রূপান্তর করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশে ইতোমধ্যে সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার অপরাধ ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক পুলিশিং ব্যবস্থার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিবছর ‘পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি এমন একটি জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যা হবে অভিযোজনক্ষম, প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনী এবং শান্তি, মানবতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থাপিত প্রস্তাব ও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বনেতা, পুলিশপ্রধান এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au