চীনের ‘জুতার রাজধানী’ জিনজিয়াংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই- চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের একটি জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেক মানুষ আহত…
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে গত দুই দিনের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মোট আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। প্রশাসন জানিয়েছে, গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের পর বারুইপুর জেলা পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে শিয়ালদহ-নামখানা রেলপথে ট্রেন চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে এবং আশপাশের সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা মূল ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে বের করে গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, নিহত ওই যুবক মূল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের একাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।
নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সূর্যপুর এলাকায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে উপযুক্ত জায়গা খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ বা তদন্ত পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই। নতুন ফাঁড়ি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বারুইপুর থানায় যেতে হবে না। অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক তদন্ত এবং জরুরি পুলিশি সেবা স্থানীয় পর্যায়েই দেওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নতুন ফাঁড়িতে বর্তমান ক্যাম্পের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতে টহল, অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।
অন্যদিকে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও অগ্রগতি হয়েছে। এ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের সময় তিনি এক কর্মকর্তার অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি ছোড়েন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন আরও তিন অভিযুক্ত, আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার ও কবীর মোল্লা।
তদন্তকারীরা বলছেন, কিশোরী হত্যা, পরবর্তী গণপিটুনি এবং সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মূল অপরাধের পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au