নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচি সফল করতে জাতিসংঘের আরও শক্তিশালী সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন বছরের সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধও পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। এ বিষয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বাংলাদেশের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৃথক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই আহ্বান জানান। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনইএসক্যাপ) নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগনারাজার সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে টেকসই, সফল ও অপরিবর্তনীয় করতে বাংলাদেশ আরও তিন বছরের প্রস্তুতিকাল চায়। তার মতে, অতিরিক্ত এই সময় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বৈঠকে সরকারের ‘৩আর’ কৌশল, অর্থাৎ রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনঃস্থাপন) এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন (দ্রুত অগ্রগতির জন্য পুনর্গঠন) তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এই কৌশলের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের গতি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জবাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সফল ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হাই-লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (এইচএলপিএফ) ২০২৬-এর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া দেশীয় বিবৃতিতে এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ প্রতিবছর ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে।
বাংলাদেশ জানায়, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় ধরনের অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক অনুদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশের বিবৃতিতে দেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিলে বর্তমানে ৩৭ শতাংশ অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ২৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au