রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানাতে বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমান জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অবস্থানরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ দুপুরে দেশে ফেরেন। গত ১৯ জুলাই তিনি চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক গিয়েছিলেন এবং আগামী রোববার ফেরার কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার তখন বলেছিলেন, তিনি দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সম্পর্কে কিছু জানেন না। তবে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সেই পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দেওয়া হবে এবং সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।
গত কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা চলছিল। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছিল, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।