ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে প্রাণ হারালেন ২৪ জন
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। duevaluation.com নামের এই প্ল্যাটফর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। মূল্যায়নকারী শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। তবে শিক্ষকদের মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি।
উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই মূল্যায়ন ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ই-মেইলে পাঠানো একটি কোডের মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে।
সিস্টেমে প্রবেশের পর একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি বেনামি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষককে কী মূল্যায়ন করেছেন, সেই তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তবে সব শিক্ষার্থীর দেওয়া মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল প্রকাশ্যে দেখা যাবে।
উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে অতীতেও বিভিন্ন নীতিমালা ও খসড়া তৈরি হয়েছিল। তবে সেগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ডাকসুর কার্যক্রম শুরুর পর তিনি বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আটকে থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাইরে থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে বলে এটিকে কেন্দ্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক করার সুযোগ নেই। ফলে এর কার্যকারিতা অনেকটাই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে। তবে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী অংশ নিলে শিক্ষকদের মূল্যায়নের একটি প্রকাশ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
উদ্যোক্তার ভাষ্য, এ উদ্যোগটি মূলত ‘রেট মাই প্রফেসরস’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে অনুপ্রাণিত। তবে প্রচলিত এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে সাধারণত নির্দিষ্ট কোর্স বা শিক্ষক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ্যে থাকার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া। তাঁর দাবি, ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলে এটি শিক্ষার মানোন্নয়নে এক ধরনের ‘বাহ্যিক চাপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জবাবদিহির পরিবেশ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হতো। তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন সভা ও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্তত একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হিসেবে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
উদ্যোক্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়েব অ্যাপ ব্যবহারের সময় কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে ডাকসুর নির্ধারিত ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এই শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কিংবা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো ব্যবস্থা নয়। ফলে মূল্যায়নের পদ্ধতি, প্রকাশিত ফলাফল যাচাই এবং সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au