১৬ দেশের কর্মীদের জন্য খুলছে ডেনমার্কের দুয়ার
বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন একটি অভিবাসন পথ চালু করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায়…
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর ও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪৭ সদস্যের সামনে দেওয়া বক্তব্যে ভলকার তুর্ক বলেন, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ব্যর্থতা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। এ কারণে দেরি হওয়ার আগেই এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য কঠোর নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তুর্ক বলেন, উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিজেও উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, বর্তমানে অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তি নিয়ে অত্যন্ত ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এআই প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত দেশ এবং এর সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশীদার দেশগুলোকে অন্তত কিছু অভিন্ন সীমারেখা নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জুলাইয়ে ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও উল্লেখ করেন তুর্কের দপ্তরের এক মুখপাত্র। ওই ঘটনায় ওপেনএআইয়ের কয়েকটি এআই এজেন্ট একটি ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্মে অনুপ্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। মুখপাত্রের মতে, ঘটনাটি দেখিয়েছে যে উন্নত বা ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের সক্ষমতা তৈরির গতি অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার গতির চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেটা, অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই ও গুগলের নাম উল্লেখ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বক্তব্যে এআইয়ের পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। একই সঙ্গে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানান তিনি।
ইউক্রেনে রাশিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহার করেছে, এমন প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুর্ক। এসব ড্রোন মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। আগস্টে এ ধরনের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রাণঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম অস্ত্র নিষিদ্ধ করার আহ্বানের প্রতিও সমর্থন জানান তুর্ক। তাঁর মতে, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হেফাজতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর ঘটনাতেও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান। আটক ব্যক্তিদের ওপর বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন গ্লাভস ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো দেশটির ইন্সপেক্টর জেনারেল তদন্ত করছেন।
বিশ্বজুড়ে ৬০টির বেশি যুদ্ধে অন্তত একটি রাষ্ট্র জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে তুর্ক বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সংঘাত উসকে দেওয়া ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তুর্ক বলেন, সংঘাতের পেছনে থাকা ‘ছায়া খেলোয়াড়দের’ প্রকাশ্যে আনা এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ পিছপা হবে না।
এদিকে চলতি মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতিসংঘ এসব বসতিকে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au