১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: প্রায় ১৯ বছর পর আগামী ১ আগস্ট কলকাতায় ফিরছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ লেবার পার্টির ৫০তম জাতীয় সম্মেলনে এক ব্যাকবেঞ্চ এমপিকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ককে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে সম্মেলনে কোনো ধরনের বিতর্ক দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়নি, যদিও এক এমপি অভিযোগ করেছেন যে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শেষ দিনে পশ্চিম সিডনির লেবার এমপি এড হুসিক একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে জাতিসংঘের একটি তদন্তের উল্লেখ করে বলা হয়, ইসরায়েল ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে গাজা উপত্যকায় গণহত্যা ও নৃশংস অপরাধ এবং পশ্চিম তীরে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে’। তবে প্রস্তাবটি সমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্বিতীয় সমর্থক (সেকেন্ডার) তিনি পাননি।
প্রতি তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সম্মেলনে লেবার পার্টির জাতীয় নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিনিধিরা শেষ পর্যন্ত আলবানিজ সরকারের অবস্থানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেন। সম্মেলনে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতে ইহুদি বংশোদ্ভূত এমপি জশ বার্নস এবং ফিলিস্তিনি-অস্ট্রেলীয় এমপি বাসেম আবদো পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। তারা বলেন, তারা ‘ক্ষোভের বদলে সহমর্মিতা’ এবং ‘বিভেদের বদলে সংলাপ’ বেছে নিয়েছেন।
তবে এড হুসিক অভিযোগ করেন, দলের প্রভাবশালী নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিষয়ে বিতর্ক বন্ধ করে দিয়েছেন। রোববার সম্প্রচারিত এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে তিনি জশ বার্নস ও বাসেম আবদোর ‘পরিমিত ও বিবেচনাপূর্ণ’ অবস্থানের প্রশংসা করেন।
আলবানিজ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় জনগণের স্বার্থেই জরুরি। আমরা দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান দেখতে চাই। আমরা চাই ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক এবং এ লক্ষ্যেই অগ্রগতি হোক।’
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ লেবার পার্টির নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হুসিকের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আলবানিজ বলেন, ‘দলের বর্তমান নীতিমালায় সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা যা-ই করি, তা যেন ভারসাম্যপূর্ণ হয়। আমরা যেমন ইসরায়েলের নিরাপদ সীমান্তের মধ্যে রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার অধিকারকে সমর্থন করি, তেমনি ফিলিস্তিনিদেরও নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বসবাসের বৈধ আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই দুই পক্ষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে দেখতে চাই। অস্ট্রেলিয়া সংঘাত নয়, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে এবং আমাদের সরকার সেই ভূমিকাই অব্যাহত রাখতে চায়।’
এড হুসিক সম্পর্কে আলবানিজ বলেন, তাঁর সাবেক মন্ত্রী বা অন্য যেকোনো প্রতিনিধি নিজের মতামত প্রকাশ ও অবস্থান তুলে ধরার পূর্ণ অধিকার রাখেন।তিনি বলেন, ‘এডসহ প্রতিটি প্রতিনিধিরই অধিকার আছে সম্মেলনে এসে নিজেদের লক্ষ্য ও অবস্থান তুলে ধরার। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
দলের অভ্যন্তরে ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আলবানিজ। তবে তিনি স্বীকার করেন, তরুণ সংসদ সদস্য থাকাকালে যে তীব্র মতাদর্শিক বিতর্ক দেখেছিলেন, এখন পরিস্থিতি বদলেছে।
তিনি বলেন, ‘দল বদলেছে। এখন আমরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত। আমি মনে করি, এটি ইতিবাচক বিষয়।’

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের মুখপাত্র জনাথন ডুনিয়াম দাবি করেন, জাতীয় সম্মেলন প্রমাণ করেছে যে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণে’ লেবার পার্টি পরিচালনা করছেন।
তিনি বলেন, তাঁর ধারণা এড হুসিক ‘দলের ভেতরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন’। গত সপ্তাহে ভিন্নমত দমন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডুনিয়াম বলেন, ‘দলের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব নেই। এড হুসিক তাঁর প্রস্তাবের জন্য একজন সেকেন্ডারও পাননি, অথচ আগে তিনি সহজেই তা পেতেন। এটি সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে।’শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এড হুসিক বলেন, বিতর্ক ঠেকাতে যে ‘অস্বাভাবিক মাত্রার তৎপরতা’ দেখা গেছে, তাতে তিনি বিস্মিত।
তিনি সম্মেলনে এমন কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে অংশ নেন, যা আলবানিজ সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। এর মধ্যে নতুন গ্যাস কর আরোপ এবং অকাস (AUKUS) নিরাপত্তা জোটে অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গীকার কমানোর প্রস্তাবও ছিল।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে উপেক্ষা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুসিক বলেন, ‘ওরা যদি আমাকে ফ্রিজে রাখেও, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।’
সূত্র-“নিউজ .কম.এইউ”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au