সূর্যের ‘হারিয়ে যাওয়া’ রুপার রহস্য উন্মোচন, মিলল নতুন ব্যাখ্যা। ছবিঃ প্রতীকী
মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল নক্ষত্র সূর্যকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বৈজ্ঞানিক ধাঁধার সমাধানের দাবি করেছেন গবেষকরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের মধ্যে রুপার পরিমাণ আগের ধারণার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। এর ফলে প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে সূর্যের রাসায়নিক গঠনের দীর্ঘদিনের অমিলও দূর হয়েছে।
প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে একই ধরনের ধূলিকণা ও গ্যাসের মেঘ থেকে সূর্য এবং সৌরজগতের প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এতদিন বিজ্ঞানীরা দেখছিলেন, উল্কাপিণ্ডে যে পরিমাণ রুপা পাওয়া যায়, সূর্যের বর্ণালি বিশ্লেষণে তার তুলনায় অনেক কম রুপার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই বৈপরীত্যই দীর্ঘদিন ধরে গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছিল।
সম্প্রতি ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সূর্যের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে আগের হিসাবের তুলনায় অন্তত ৫৫ শতাংশ বেশি রুপা রয়েছে। গবেষকদের মতে, অতীতের পরিমাপ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণেই এই পার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
গবেষণার অন্যতম সদস্য এবং সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট সেমা কালিসকান জানান, নতুন ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মডেলের মাধ্যমে সূর্যের বর্ণালি রেখা আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। সূর্যের বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করার সময় আলো যেভাবে শোষিত ও প্রতিফলিত হয়, সেই প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
গবেষণায় সুপারকম্পিউটারের সহায়তায় রুপার পরমাণুর আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, পূর্ববর্তী গবেষণা গুলোতে ব্যবহৃত মডেল যথেষ্ট নির্ভুল ছিল না। নতুন বিশ্লেষণের ফলে সূর্যে রুপার পরিমাণের যে হিসাব পাওয়া গেছে, তা এখন পৃথিবীতে পাওয়া একই সময়ের প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের রাসায়নিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া শুধু এই নক্ষত্রকে বোঝার জন্যই নয়, বরং অন্যান্য নক্ষত্র, গ্রহ এবং মহাজাগতিক উপাদানের উৎপত্তি ও বিবর্তন ব্যাখ্যাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমা কালিসকান বলেন, সূর্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান রেফারেন্স। বিভিন্ন বয়স ও ধরনের নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে মহাবিশ্বে রুপার উৎপত্তি এবং মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিজুড়ে এর বিস্তারের ইতিহাস আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।