পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ‘প্রভাবশালী মহলের’ মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর…
একটি তালাবদ্ধ বাড়ি। কয়েক দিন ধরে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। এক পর্যায়ে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পুলিশ এসে তালা ভাঙার পর সামনে আসে এক পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর।
২২ আগস্ট ২০২৬, শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ।
মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে একের পর এক তথ্য, অভিযোগ ও প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রথমে ডাকাতির সম্ভাবনার কথা বলা হয়। পরে পুলিশ জানায়, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অন্যদিকে স্বজন ও স্থানীয় সূত্র বাড়ি নির্মাণ নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি এবং আগামীর ওপর কথিত হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।
ওটিএন বাংলার পূর্ববর্তী প্রতিবেদন, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য, পুলিশের ভাষ্য এবং পরবর্তী সংবাদপ্রতিবেদন একত্রে পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ঘটনাটির বিভিন্ন বর্ণনা মিলিয়ে দেখা এবং উত্থাপিত প্রশ্নগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোরও স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর জরুরি। এসব বক্তব্য ও প্রশ্ন পাঠকের সামনে তুলে ধরতে এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই ওটিএন বাংলার এই বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। আলমারি ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার স্থানগুলো এলোমেলো ছিল। এসব দেখে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথমে ডাকাতির সম্ভাবনা বিবেচনা করেন।
মরদেহগুলোর অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন বর্ণনা আসে। গণপতির মরদেহ ছাদে, স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছে এবং আয়ুশের মরদেহ ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় বলে স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানান। পুলিশের পরবর্তী ভাষ্যে বলা হয়, ছাদে হত্যার পর কয়েকটি মরদেহ সিঁড়ির দিকে সরানো হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ সহ কিছু কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছে গণপতির স্ত্রী কন্যাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। ছোট্ট ছেলেকে হত্যার আগে লিঙ্গ কর্তন করা হয়েছে। পুলিশ এই তথ্যগুলো গোপন করেছে। নিউজ একটা সাধারণ ক্রাইমকে তারা কেন গোপন করতে যাবে? কারণ এই হত্যাকাণ্ড একটা সম্প্রদায়ের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
উদ্ধারের সময় মরদেহে পচন ধরেছিল। ফলে ঘটনাস্থলে দেখা শারীরিক পরিবর্তন, আঘাত এবং মৃত্যুর কারণকে আলাদা করে নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পুলিশ পরে প্রতিবেশী দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, তাঁরা পাশের ভবন হয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিলেন। গণপতি তাঁদের দেখে ফেললে কথা-কাটাকাটি হয় এবং পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শব্দ শুনে প্রীতিলতা ও আগামী ছাদে গেলে তাঁদেরও হত্যা করা হয়। পরে ঘরের ভেতরে আয়ুশকে হত্যা করা হয়। শিশুটি ঘুমন্ত ছিল, নাকি জেগে উঠে সিদ্ধার্থকে চিনতে পেরেছিল—সরবরাহকৃত প্রতিবেদনগুলোতে এই অংশের বর্ণনা এক নয়।
হত্যার পর ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করা, বিদ্যুতের তার কাটা, টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়া এবং মোবাইল ফোন পানিতে ভিজিয়ে রাখার কথাও পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে। সেই জবানবন্দির সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ফরেনসিক তথ্য ও সাক্ষ্য কতটা মেলে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনের উপকরণে নেই।
আগামীর মরদেহে গুরুতর আঘাত, চোখের ক্ষতি, পোশাকের অবস্থা এবং শরীরের কিছু অংশ পোড়ানোর অভিযোগ ওটিএন বাংলার আগের প্রতিবেদনে স্বজন ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে উঠে আসে। যৌন নির্যাতন হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন স্বজনেরা।
তবে এসব বর্ণনাকে ময়নাতদন্তে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।
সরবরাহকৃত একটি প্রতিবেদনে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামীর চোয়াল ভাঙা বা চোখ বের করে দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। অ্যাসিড বা রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে পোড়ানোর আলামত না পাওয়ার কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে, ২৬ আগস্ট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া বক্তব্যে চিকিৎসক জানান, প্রীতিলতা ও আগামীর মরদেহ পরীক্ষায় এবং পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনায় যৌন নির্যাতনের পক্ষে আলামত পাওয়া যায়নি। চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।
ডোমের দাবি আগামী ও তাঁর মায়ের শরীরে বীর্যের নমুনা পাওয়া গেছে
ময়নাতদন্তের কাজে নিয়োজিত এক ডোম দাবি করেছেন, নিহত তরুণী আগামী চক্রবর্তী ও তাঁর মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর যৌনাঙ্গে বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসকের নির্দেশে এসব নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
২৫ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ময়নাতদন্তের কাজে নিয়োজিত ওই ডোমকে এ বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মেয়েটার যৌনাঙ্গে বীর্য পাওয়া গিয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসক তাঁকে ধর্ষণের কোনো আলামত রয়েছে কি না, তা দেখতে বলেন। পরে তিনি বীর্যের মতো পদার্থ দেখতে পান এবং চিকিৎসকের নির্দেশে নমুনা সংগ্রহ করে রাখেন।
ওই ডোমের দাবি, চারটি পৃথক স্থানে বীর্যের নমুনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি নমুনা পুলিশ নিয়ে গেছে এবং দুটি মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, চিকিৎসক বিষয়টি অস্বীকার করছেন কেন। জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি তা বলতে পারলাম না। ডাক্তার জানে আর রিপোর্ট জানে।’
তিনি আরও দাবি করেন, নিহত তরুণীর মায়ের যৌনাঙ্গেও বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং সেখান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিবেশীরা কী দেখেছিলেন?
ওটিএন বাংলার পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে দাবি উঠে আসে, ঘটনার দিন ভোরে ছাদে অস্বাভাবিক নড়াচড়া এবং দুই যুবককে একটি মরদেহ সরাতে দেখেছিলেন কয়েকজন প্রতিবেশী। বর্ণনাগুলোতেও পার্থক্য রয়েছে—কোথাও ছাদ থেকে সিঁড়ির দিকে, কোথাও ছাদের ভেতরের দিকে মরদেহ টানার কথা বলা হয়েছে। তাঁরা ঠিক কী দেখেছিলেন, কখন দেখেছিলেন এবং কতটা স্পষ্টভাবে দেখেছিলেন, তা সাক্ষ্য নিয়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
একজন নারী অস্বাভাবিক শব্দ শুনেছিলেন এবং পরে তাঁকে কথা না বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে অভিযোগ রয়েছে।
ডোপ টেস্ট নেগেটিভ: কী জানা গেল, কী জানা গেল না
মাদক সেবনের অভিযোগ পুলিশের ঘটনার ব্যাখ্যার কেন্দ্রীয় অংশ। কিন্তু গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। মহানগর ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীও পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফোনালাপ, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত হস্তান্তর
পুলিশের বক্তব্যের বরাতে আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার আগে-পরে প্রায় ৮০ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে ৮০ বার ফোনে যোগাযোগ হয়েছে।
যোগাযোগের ঘনত্ব তদন্তের একটি সূত্র হতে পারে। কিন্তু কলের সংখ্যা দিয়ে কথোপকথনের বিষয় বা হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা নির্ধারণ করা যায় না। ফোনের অবস্থান, সময় এবং অন্যান্য আলামতের সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।
গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। সরবরাহকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত নতুন রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে কারাগারের ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
গোপীনাথ চক্রবর্তী এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বাড়ি নির্মাণের সময় গণপতির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন। গোপীনাথের সন্দেহ, ওই বিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে।
দ্য নর্থইস্ট নিউজের বরাতে সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী স্থানীয় কয়েকজনের হয়রানি ও হুমকির মুখে ছিলেন। তিনি বিষয়টি মা প্রীতিলতা এবং বন্ধু প্রথা মণ্ডলকে জানিয়েছিলেন।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে প্রথার সঙ্গে মেসেঞ্জারে সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়। তবে সেই কথোপকথনের মূল রেকর্ড এই সংকলনে যাচাই করা হয়নি।
বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগও এসেছে। এগুলো সম্ভাব্য অনুসন্ধানের বিষয়; হত্যার প্রতিষ্ঠিত কারণ কিনা তা নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
এই অংশে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—পরিবার কোনো লিখিত অভিযোগ করেছিল কি না, করলে তা কে গ্রহণ করেছিলেন এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?
আয়ুশের গৃহশিক্ষিকা ও প্রতিবেশী ইভা রহমান নিয়মিত পরিবারটির বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। প্রীতিলতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে হত্যার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি তথ্য জানতেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
২২ আগস্টের পর তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। তাঁর অবস্থান বা অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রীতিলতা ও ইভা পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিবারটি আগে কোনো সহায়তা চেয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার হতে পারে।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনগুলোতে নাম প্রকাশ না করা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে অন্তত ছয়জনের সম্পৃক্ততা এবং পরিবারের পরিচিত একজনের মাধ্যমে অন্যদের বাড়িতে প্রবেশের দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, পুরোহিত, তাঁদের স্বজন এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধেও পরিকল্পনা বা তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ এসেছে।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন
নিহতের স্বজনেরা বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা দাবি ও বিরোধের অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের দিন সহযোগীদের নিয়ে বাড়ির আশপাশে তাঁকে দেখার দাবিও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ সত্য কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রশাসনিক প্রভাব থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই যুবক পাশের ভবন দিয়ে ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিল। কিন্তু এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তারা কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিল যে বাড়ির ছাদে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করা যাবে? বিদ্যুৎ সংযোগ কে এবং কখন বিচ্ছিন্ন করেছিল? হত্যার পর বাড়ির ফটকে তালা লাগানো হলো কীভাবে? ঘরের আসবাব ও মূল্যবান সামগ্রী রাখার স্থান কেন ভাঙা হয়েছিল? চারটি মোবাইল ফোন কোথায় পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর কল রেকর্ড ও অবস্থান কী বলছে? নিহতদের মুখে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী ছিল? হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি বা গামছায় কার আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ পাওয়া গেছে? সন্দেহভাজনদের মোবাইল লোকেশন, কললিস্ট এবং ঘটনাস্থলের ফরেনসিক আলামত কি পুলিশের বর্ণনাকে সমর্থন করছে? এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে কি? বাড়ি নির্মাণকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগটি আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে কি? যেভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, তাতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তদন্তে কি এই সম্ভাবনাটি খতিয়ে দেখা হয়েছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর প্রয়োজন।
প্রতিবেদন: ওটিএন বাংলা , দ্য নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au