রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, তফসিল ঘোষণা ইসির
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট-বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- কক্সবাজারের টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কে দিনের বেলায় যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসটি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা বোরকা পরা এক নারীর নজরদারিতে ছিল। তাঁর দেওয়া সংকেতেই পাহাড় থেকে নেমে আসে ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসের গতিরোধ করে এবং মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে দুই বিকাশ প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও লুট হওয়া টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার নুরালীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই লেদা এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
যেভাবে সংঘটিত হয় ডাকাতি
ঘটনাটি ঘটে গত ২ আগস্ট দুপুর পৌনে ১টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী পালকি পরিবহনের একটি বাসে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন।
সেদিন টেকনাফের দুটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তিনজন বিকাশ এজেন্টের বিক্রয় প্রতিনিধি হ্নীলা বাজারে গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে বাসে ওঠেন। তাদের কাছে মোট ৮২ লাখ টাকা ছিল। এর মধ্যে একরাম হোসেনের কাছে ৩৫ লাখ, আল আরমানের কাছে ২২ লাখ এবং আবদুল করিমের কাছে ২৫ লাখ টাকা ছিল।
বাসে একরাম ও আরমান পাশাপাশি বসেছিলেন। তাদের সামনের আসনে ছিলেন আবদুল করিম।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি টেকনাফ স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বাসটিকে অনুসরণ করছিল। অটোরিকশাটিতে কালো বোরকা পরা এক নারী ছিলেন। বাসের কয়েকজন যাত্রী জানান, তিনি বারবার মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন।
সংকেতের পর পাহাড় থেকে নামে ডাকাতরা
বাসটি দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে পৌঁছালে সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। বাস থামতে বাধ্য হলে পাহাড় থেকে মুখোশধারী ৭ থেকে ৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নেমে এসে বাসটি ঘিরে ফেলে। যাত্রীদের ভয় দেখাতে তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে।
এরপর চারজন ডাকাত বাসে উঠে সরাসরি বিকাশ প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে এগিয়ে যায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাসে যাত্রীবেশে থাকা একজন ব্যক্তি একরাম হোসেন ও আল আরমানকে শনাক্ত করে ডাকাতদের দেখিয়ে দেন। এরপর আল আরমানের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অপরদিকে একরাম হোসেনকে মারধর করে তার কাছে থাকা ৩৫ লাখ টাকার ব্যাগও ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। এরপর তারা দ্রুত পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। একই সময়ে বাসটিকে অনুসরণ করা ওই নারী অটোরিকশা নিয়ে কক্সবাজারের দিকে চলে যান বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন, ডাকাতরা কোনো ধরনের খোঁজাখুঁজি না করে সরাসরি টাকার ব্যাগ বহনকারী বিকাশ প্রতিনিধিদের কাছেই যায়। এ কারণে পুলিশের ধারণা, ডাকাত দলের সদস্যদের কেউ আগে থেকেই তাদের চিনতেন অথবা বাসে থাকা কারও কাছ থেকে তাদের অবস্থান ও টাকার তথ্য পেয়েছিলেন।
এ ঘটনায় বাসচালক, চালকের সহকারী কিংবা কোনো যাত্রীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরদিন ৩ আগস্ট টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করেন বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি একরাম হোসেন। মামলায় ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ডাকাতির সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন আল আরমান ও একরাম হোসেন। পরে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত আল আরমানকে পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিকাশের টেকনাফ এজেন্ট আবদুল করিম বলেন, প্রতিদিনের মতোই তিনজন প্রতিনিধি গ্রাহকদের টাকা বিতরণের জন্য যাচ্ছিলেন। তাদের কাছে মোট ৮২ লাখ টাকা ছিল, যার মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা লুট হয়ে যায়।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে যে, বাসটিকে অনুসরণ করা ওই নারীর সংকেতেই ডাকাতরা হামলা চালায়। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জড়িত থাকারও সন্দেহ
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় আকতার হোসেন, তার ভাই ইমান হোসেন, ভাগনে কামাল হোসেন, আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ আলম, রাসেল ও খালেকসহ আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বাসটিকে অনুসরণ করা নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বাসচালক, সহকারী বা কোনো যাত্রীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ডাকাত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au