সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: চাচার মৃত্যুদণ্ড
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- সিলেটের আলোচিত চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ও শিশুটির চাচা জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর মতে, এই আন্দোলন শুধু সরকারের ওপর চাপই সৃষ্টি করেনি, বরং দেশের তরুণদের মধ্যেও নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জুন ও জুলাই মাসজুড়ে চলা আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৬ দিন অনশন করেন ওয়াংচুক। দিল্লির তীব্র গরমে তিনি টানা শুধু লবণ ও পানি খেয়ে অনশন চালিয়ে যান। এতে তাঁর ১১ কেজি ওজন কমে যায়। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে ছয় কেজি ওজন ফিরে পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক বলেন, এই আন্দোলনের পর ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তাঁর ভাষায়, তরুণেরা এখন বুঝতে পেরেছে যে, তারা চাইলে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে এবং অন্যায় বা অপছন্দের বিষয় নীরবে মেনে নিতে বাধ্য নয়।
আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়ে যেসব বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়েছে, তার অন্যতম ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী এই আন্দোলন। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি অংশ নেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা।

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনস্থলে লাদাখের পরিবেশবাদী কর্মী সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। ১৭ জুলাই ২০২৬, নয়াদিল্লিছবি:রয়টার্স
অনশন চলাকালে দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতাল নিয়ে যায়। তিনি বলেন, হাসপাতালে শেষ ছয় দিন তাঁর কাছে কারাগারে থাকার মতোই মনে হয়েছে।
ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং তা সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বৃহৎ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ২৩ জুলাই মধ্যরাতের পর তিনি অনশন ভাঙেন। এর পরদিন, ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
সরকারের একাধিক পদক্ষেপ
আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে প্রযুক্তি খাতের এক বিলিয়নিয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাও দেয় সরকার।
শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের আহ্বান
ওয়াংচুকের মতে, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্মবাজারের বাস্তব চাহিদার বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরীক্ষাব্যবস্থা মূলত বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) নির্ভর, যার উদ্দেশ্য দ্রুত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করা। কিন্তু এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা কিংবা বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে হাজারো তরুণের বিক্ষোভফাইল ছবি: রয়টার্স
তিনি মনে করেন, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যোগ্যতাকে মূল্যায়নের কেন্দ্রে আনতে পারলে স্কুলগুলোও তাদের পাঠদানের ধরন বদলাতে বাধ্য হবে। এতে ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে এবং বেকারত্ব কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ওয়াংচুক বলেন, “আগামী ১৫ বছরে বিশ্ব ও দেশ কোথায় যাবে, তা মাথায় রেখে এখনই শিক্ষাব্যবস্থায় দূরদর্শী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।”
বেকারত্ব নিয়ে মতপার্থক্য
ওয়াংচুকের দাবি, গত ২৫ বছর ধরে ভারতে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। তাঁর মতে, এই সংকট কাটাতে শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের বিকল্প নেই।
তবে ভারত সরকারের দাবি, দেশটিতে কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত।
সূত্র-বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au