বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি, ফাঁস হলো ভয়ংকর নথি
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: ফিফা বিশ্বকাপের মাঠে ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়েছে আয়োজক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি,…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উয়েফার মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এক নারী কর্মীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তী সময়ে ওই কর্মীকে বড় অঙ্কের অর্থ ও শিক্ষার খরচ দিয়ে সংস্থা থেকে বিদায় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইনফান্তিনো এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েফায় দায়িত্ব পালনের সময় ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারী কর্মীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় ইনফান্তিনো ছিলেন বিবাহিত এবং চার সন্তানের বাবা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের সময় ওই নারী কর্মীকে উয়েফার একটি ব্যবস্থাপনা পদে পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং উয়েফার তৎকালীন সভাপতি মিশেল প্লাতিনি ইনফান্তিনোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এরপর ওই নারী কর্মী উয়েফা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ছয় অঙ্কের অর্থের একটি প্যাকেজ পান বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের খরচও উয়েফা বহন করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উয়েফার এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, সংস্থাটি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তিনি নিশ্চিত করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বিদায়ী অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ কোর্সের ফিও পরিশোধ করা হয়েছিল।
উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই সময়কার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০১৬ সাল থেকে কর্মীদের এ ধরনের সুবিধা ও বিদায়ী প্যাকেজ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। বর্তমানে উয়েফার কর্মী বিধিমালা সব পর্যায়ের কর্মীর জন্য প্রযোজ্য এবং আধুনিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড অনুসরণ করে।
ফিফা সভাপতির পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোকে সরাসরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। ফিফার এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
ফিফার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি। কারণ এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে। কর্মীদের পদোন্নতি, বিদায়ী সুবিধা ও ক্ষতিপূরণসহ সংশ্লিষ্ট সব সিদ্ধান্ত নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং যথাযথ কর্মকর্তাদের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে বলেও ফিফা জানিয়েছে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের অংশীদারত্ব বিক্রির একটি গোপন পরিকল্পনা নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একসময় যে প্রতিষ্ঠান উয়েফার মহাসচিব হিসেবে ইনফান্তিনো কাজ করেছেন, সেই উয়েফাই বর্তমানে তাকে ফিফার নেতৃত্ব থেকে সরানোর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে নতুন এই অভিযোগ তার ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রায় ১৬ বছর উয়েফার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি সংস্থাটির মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি এই পদে বহাল রয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ইনফান্তিনো লিনা আল আশকারের সঙ্গে বিবাহিত। ২০০১ সালে তাদের বিয়ে হয়। লেবানন ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল বলে জানা যায়।
তবে উয়েফায় দায়িত্ব পালনের সময় নারী কর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাকে অর্থ ও শিক্ষার সুবিধা দিয়ে বিদায় করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে অস্বীকার ছাড়া কোনো স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফল সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au