কোন দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কে কে?
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান…
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে ইরান। তবে এই সমঝোতা হলেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানকে আলাদা করেছে। বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে বৃহত্তর কোনো সমঝোতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরান ‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করবে আরও কিছু শর্ত পূরণের ওপর। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর আরও কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বন্ধ করা, ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করা, ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
ইরান-ওমান আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’
ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কোনো পক্ষকে সরাসরি দায়ী করেনি দেশটি।ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ পর্যায়ে রয়েছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, আলোচনার অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা জরুরি। একই সঙ্গে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে ওমান।
আরাকচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আগে যে পৃথক নৌপথ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল করত, তা এখন তেহরানের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়। স্থায়ী নৌপথের কারিগরি ও আইনি বিষয়গুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়েও আলোচনা করছে ইরান।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও সমঝোতার জন্য বর্তমান সময়কে উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দেশে এখন ঐক্য, শক্তি ও সংহতি রয়েছে এবং তাঁর মতে, চলমান যুদ্ধে ইরানকে বিজয়ী ও শক্তিশালী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
হরমুজে আবারও জাহাজে হামলার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজও লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান।যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করত।
শনিবার ইউএই জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। তবে হামলায় কেউ আহত হয়নি।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা UKMTO জানিয়েছে, একটি জাহাজ অজ্ঞাত একটি বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চুক্তি হলে নৌপথ খুলে দেওয়া সম্ভব
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বারবার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। তবে এর আগে ইরান একাধিকবার আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে এবং এর ফলে স্বাভাবিক তেল পরিবহন আবার শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কোনো বাধা ছাড়াই পুনরায় চালুর চুক্তি ঘোষণা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে। তবে এ পদক্ষেপ ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বর্তমান অবরোধ শুরুর পর মানবিক সহায়তা নিয়ে ৩০টির বেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৫৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া, দুটি জাহাজ অচল করে দেওয়া এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে তারা।
খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ইরানে
ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানে খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে তৈরি হওয়া সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তবে মানবিক সহায়তার জন্য অবরোধের কোনো ব্যতিক্রমের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও শনিবার বলেছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে কি না, তা ওয়াশিংটন ইরানের শর্ত মেনে নেয় কি না তার ওপর নির্ভর করছে। তাদের দাবি, বিষয়টি ইরান-ওমান আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলেই হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে
চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে ইরানের একটি সূত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর তেহরানকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।
এটি ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ইরানকে দেওয়ার বিষয়ে তারা কখনোই সম্মত হবে না। সর্বশেষ আলোচনায় এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরান সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার থেকে কর বা টোল আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, বেড়েছে জ্বালানির দাম এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও তেহরান স্পষ্ট করেছে, শুধু এই চুক্তি দিয়ে প্রণালি খুলবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক হুমকি বন্ধসহ আরও কয়েকটি শর্ত পূরণকেও প্রণালি খুলে দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে ইরান।
সূত্র- রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au