আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রবিরোধী: তসলিমা নাসরিন
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। আওয়ামী লীগের…
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ডেভিড ব্র্যাটের নিয়োগ অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় দুই বছর ধরে খালি থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই পদে ব্র্যাটের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন শুক্রবার বিকেলে (অস্ট্রেলীয় পূর্বাঞ্চলীয় সময়) ব্র্যাটের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় ক্যানবেরা।
ব্র্যাটের নিয়োগের বিষয়ে বোয়েন বলেন, “এটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গতকালই আমি কথা বলেছি। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা নতুন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগকে স্বাগত জানাই।”
প্রায় দুই বছর ধরে কেন নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়নি, এ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বোয়েন বলেন, এটি অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।
তিনি বলেন, “কোনো প্রশাসনের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। গত দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে খুব সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। এখন একজন স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ পাওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।”
কে এই ডেভিড ব্র্যাট?

বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর ডেভিড ব্র্যাটের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ছবি: নিউজওয়্যার/মার্টিন ওলম্যান।
ডেভিড ব্র্যাট ২০১৪ সালে ভার্জিনিয়া থেকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন হাউস মেজরিটি লিডার এরিক ক্যান্টরকে পরাজিত করে বড় ধরনের রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করেছিলেন।
রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীল ঘরানায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি ‘টি পার্টি’ আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এই আন্দোলন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির, বিশেষ করে আবাসনবাজারে সরকারের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল।
তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্র্যাট বর্তমান ভার্জিনিয়া গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গারের কাছে পরাজিত হন। এরপর তিনি ভার্জিনিয়ার ইভানজেলিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিবার্টি ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ সময়েই অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন ব্র্যাট

ড. ব্র্যাট ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়া থেকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছবি: চিপ সোমোডেভিলা/গেটি ইমেজেস।
ব্র্যাটের নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ANZUS চুক্তির ৭৫তম বার্ষিকী সামনে।আগামী ১ সেপ্টেম্বর এই চুক্তির ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। ফলে এর আগেই নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত অস্ট্রেলিয়ায় দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন ক্যারোলিন কেনেডি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে পদটি স্থায়ীভাবে পূরণ করা হয়নি।
ব্র্যাটের নিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নতুন নিয়োগের অংশ। একই সময়ে কম্বোডিয়া, সাইপ্রাস ও ব্রাজিলেও নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করা হয়েছে।
নিয়োগ নিয়ে আগেই ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছিলেন আলবানিজি
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি আগেই জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেবে, তার সঙ্গেই কাজ করবে তার সরকার।
গত ২৮ এপ্রিল তিনি বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে যাকে মনোনীত করা হবে, আমি তার সঙ্গেই কাজ করব। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত। আমি বুঝতে পারছি, প্রেসিডেন্ট ডেভিড ব্র্যাটকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেবেন এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তার নিয়োগ অনুমোদিত হবে।”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যাকেই নিয়োগ দেবে, তিনি তার সঙ্গে কাজ করবেন। ছবি: নিউজওয়্যার/মার্টিন ওলম্যান।
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রদূত মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান করি। একইভাবে আমরা আশা করি, আমাদের মনোনীত ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তও অন্যরা সম্মান করবে।”
শুল্ক ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে টানাপোড়েন
নতুন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। বাণিজ্যনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে দুই দেশের অবস্থানেও পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ আরও কয়েকটি দেশও নতুন শুল্কের আওতায় পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজি সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
৮ এপ্রিল নিউজ২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা জরুরি এবং যেসব বেসামরিক মানুষ সংঘাতে অংশ নিচ্ছেন না, তাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বিরোধী দলের সমর্থন
ডেভিড ব্র্যাটকে অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়নের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সাবেক কংগ্রেসম্যান ডেভিড ব্র্যাটকে অস্ট্রেলিয়ায় পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেওয়াকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন।
টেলরের মতে, রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তি পরিবর্তিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের জোটের মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে। বিশেষ করে AUKUS-এর মতো প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় এমন শক্তিকে প্রতিহত করাই হবে এই সম্পর্কের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সূত্র-নিউজ কম এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au