মাউন্ট ব্রোমোতে দাবানল, সব প্রবেশপথ বন্ধ করল ইন্দোনেশিয়া । ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভায় অবস্থিত জনপ্রিয় মাউন্ট ব্রোমো জাতীয় উদ্যানে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগ্নেয়গিরির গহ্বর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শনিবার সন্ধ্যা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উদ্যানটিতে প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্যান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কোনো পর্যটককে জাতীয় উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
মাউন্ট ব্রোমো ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং এর গহ্বরকে ঘিরে থাকা বিশাল বালুময় অঞ্চল পর্যটকদের কাছে ‘বালুর সমুদ্র’ নামে পরিচিত। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক এই এলাকায় ভ্রমণ করেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে চলা দাবানলে এখন পর্যন্ত মাউন্ট ব্রোমো জাতীয় উদ্যানের প্রায় ১৭৬ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে, যা প্রায় ৪৩৪ দশমিক ৯১ একরের সমান। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগুন প্রায় ৬০ হেক্টর এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা দ্রুত বিস্তৃত হয়ে ১৭৬ হেক্টরে পৌঁছেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে রাতের অন্ধকারে পাহাড়ের ঢালজুড়ে আগুনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে আগুনের বড় বড় শিখা জ্বলতে এবং পাহাড়ের বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের পাশাপাশি উদ্যানের কর্মী এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের মাউন্ট ব্রোমো এলাকায় ভ্রমণে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যেসব পর্যটক আগেই প্রবেশের টিকিট কিনেছিলেন, তাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা চাইলে পরবর্তী সময়ে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। কেউ ভ্রমণ বাতিল করতে চাইলে টিকিটের অর্থ ফেরত নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পূর্ব জাভার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা কাজ করছে। আগুন নেভাতে পানি ছিটাতে সক্ষম হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পানি বহন ও ছিটানোর কাজে সক্ষম ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছে। আগুন যাতে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন দিক থেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তবে পাহাড়ি ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে আগুন নেভানোর কাজ বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো এবং পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করাও উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত দাবানলের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করতে বিস্তারিত তদন্তের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, আগুনের বিস্তার এবং পর্যটন এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত মাউন্ট ব্রোমো জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশ এবং সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সুত্রঃ রয়টার্স