দুই নেতার বৈঠকে ইতিবাচক সমাধানের আশা দীনেশ ত্রিবেদীর
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।…
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে তিনি ‘গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তসলিমা নাসরিন এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন তিনি।
৭৮ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন।
তসলিমা নাসরিন বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা ঠিক হয়নি। এটি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ। আমি চাই, যত দ্রুত সম্ভব এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।”
বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তসলিমা নাসরিন।
তিনি বলেন, “অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চান। কিন্তু তিনি ফিরতে পারবেন কি না, তা আমি জানি না। অন্যদিকে, কেউই চায় না আমি বাংলাদেশে ফিরে যাই।”
ধর্মীয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়েন তসলিমা নাসরিন। ধর্ম ও সমাজ নিয়ে তাঁর লেখালেখি এবং মতামতের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশে ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির প্রভাব বাড়ছে।
তসলিমা নাসরিন বলেন, “এখন জামায়াতে ইসলামী একটি বিরোধী রাজনৈতিক দল। তারা নারী-পুরুষের সমতার বিরুদ্ধে এবং শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চায়। এমনটি হলে কোনো সংখ্যালঘু টিকে থাকতে পারবে না। বাংলাদেশ অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে সভ্য ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কেউ করছে না। সরকার শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।”
বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তসলিমা বলেন, “অনেক মাদ্রাসা ও মসজিদে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা শেখানো হচ্ছে।”
প্রায় ১৯ বছর পর সম্প্রতি কলকাতায় ফিরে এসেছেন তসলিমা নাসরিন। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অনুষ্ঠানে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০০৭ সালে তাঁর লেখা দ্বিখণ্ডিত বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে কলকাতায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ওই সময়ের বামফ্রন্ট সরকার তাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন।
সূত্র-দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au