রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভেক) শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন করেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীছবি: ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পেজ থেকে
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, ‘সমস্যার সমাধান হয় যখন আমরা কথাবার্তা বলি।’
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভেক) শিশুদের জন্য নতুন খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। এ সাক্ষাৎ এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমি অনেকবার তাঁর বক্তৃতা শুনেছি। তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি।’
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলোচনা হলে দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, যদি দুই নেতার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায় (হোয়েন টু লিডার্স মিট, লট অব প্রবলেমস আর সলভড)।’
আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যার সমাধান হয় যখন আমরা কথাবার্তা বলি। আমার তো পুরো বিশ্বাস যে মানুষ এক আছে। সমাধান (সলিউশনটা) হবে।’
দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক দিক দেখার কোনো কারণ নেই। তাঁর মতে, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগের ভিত্তি শক্তিশালী এবং আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘এখানটায় কোনো নেতিবাচক জিনিস নেই। সব ইতিবাচক।’
সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে আগ্রহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ এমন সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ফলে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংলাপ ও রাজনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর ভারতের জোর দেওয়ার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সোমবারের সৌজন্য সাক্ষাতে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি মূলত দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।
শিশুদের জন্য আইভেকে খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলোচনাকেই সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।
তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যত ধরনের সমস্যা বা মতপার্থক্যই থাকুক, আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হলে সেই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।