চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের দাম ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড, আগ্রহী ম্যানসিটি
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিতে আগ্রহী ম্যানচেস্টার সিটি। তবে চেলসির এই তারকাকে পেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে ইংলিশ…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রকাশ্য তৎপরতা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সম্প্রতি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পরদিন ক্যাম্পাসে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সিন্ডিকেটের ওই সিদ্ধান্তের পরও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংঘর্ষ ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা থাকলেও কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
গত ৩ আগস্ট সোমবার রাতে একটি ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পরদিন ৪ আগস্ট মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। অস্ত্রের মহড়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত এবং দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ক্যাম্পাসে এ ধরনের সংঘর্ষ ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডের কারণে একদিকে যেমন পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোকছেদুল মোমিন বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে সহিংসতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনকে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বারবার জানিয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে কল্যাণমূলক সংসদীয় রাজনীতি হতে পারে, তবে ক্যাম্পাসের ভেতরে মিছিল, মিটিং, জোরপূর্বক দলে নেওয়া কিংবা পোস্টার লাগানোর মতো প্রচলিত দলীয় রাজনীতি তারা চান না। রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে সহিংসতার এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের অনিরাপদ করে তুলছে। এ ধরনের ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উভয়কেই নিতে হবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও সংঘর্ষ, অস্ত্র প্রদর্শন ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক সংঘাত চায় না। তারা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে যারা ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, শিক্ষার্থীদের গণরায়ের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল সিন্ডিকেট। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এর ফল হিসেবে শিক্ষার্থীদের আবারও ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে হচ্ছে, যা সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত।
এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে।
তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্ররাজনীতি চালুর বিষয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু থাকবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে, তা প্রশাসনের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংঘর্ষ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলেই হবে না, ক্যাম্পাসে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘর্ষ, অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষার স্থান। সেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সংঘর্ষ বা অস্ত্রের উপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au