রাশিয়ার হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ইউক্রেনের।
মেলবোর্ন, ১১ আগস্ট: ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। মঙ্গলবার ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা সংগ্রহ করছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়ায়। সেখানে ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁর দাবি, শহরটিতে উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোতে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাপোরিঝিয়ার পাশের দনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলেও রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সামরিক প্রশাসন।
জেলেনস্কি আরও জানান, রাজধানী কিয়েভে একটি সংক্রামক রোগের হাসপাতালও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া খেরসন ও খারকিভে হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া সামরিক সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো। যুদ্ধের এক পর্যায়ে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলো, ইউক্রেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।
তবে ইউক্রেনের এসব অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, রুশ বাহিনী কিয়েভ ও জাপোরিঝিয়ায় সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন এবং লজিস্টিক কেন্দ্রগুলোতে দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ইউক্রেনের সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো মন্তব্য করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।