বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট: বিরল এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে এবং নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে কিছু সময়ের জন্য দিনের আকাশে রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে আড়াল হয়ে থাকতে পারে। তবে এই পূর্ণগ্রাস সব জায়গা থেকে দেখা যাবে না। নির্দিষ্ট একটি সরু অঞ্চল থেকেই সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে যেতে দেখা যাবে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ থেকে এবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে এমন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্পেনের বেশির ভাগ অঞ্চল এবার পূর্ণগ্রাসের পথ বা ‘পাথ অব টোটালিটি’র মধ্যে পড়বে। এর ফলে দেশটির প্রায় দেড় কোটি মানুষ সরাসরি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পেতে পারেন।
পূর্ণগ্রাসের পাশাপাশি এই গ্রহণের আংশিক রূপও বিশ্বের বিস্তৃত অঞ্চলে দেখা যাবে। পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি এলাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাবে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে, অর্থাৎ আংশিক হলেও, এই সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন।
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পৃথিবীর একটি অংশে পৌঁছাতে বাধা দেয়। আর পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ এমনভাবে সূর্যের সামনে অবস্থান করে যে পৃথিবীর নির্দিষ্ট একটি অঞ্চল থেকে সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকা অবস্থায় দেখা যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদের আপাত আকার প্রায় একই রকম দেখানোর কারণেই এমন বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়। চাঁদ তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট হলেও পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে আকাশে সেটিকে সূর্যের প্রায় সমান আকারের মনে হয়।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের উজ্জ্বল অংশ চাঁদের আড়ালে চলে গেলে অল্প সময়ের জন্য সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দৃশ্যমান হতে পারে। এ সময় আকাশের আলো দ্রুত কমে যায় এবং তাপমাত্রাতেও সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
তবে সূর্যগ্রহণ দেখার সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিরাপদ ও অনুমোদিত সূর্য পর্যবেক্ষণ চশমা বা বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করেই গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এই মহাজাগতিক ঘটনা সরাসরি দেখতে না পারলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ও মহাকাশবিষয়ক সংস্থার সরাসরি সম্প্রচার এবং অনলাইন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সূর্যগ্রহণটি অনুসরণ করতে পারবেন।