বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বা একিউআইএস নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের জন্য নতুন সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট: বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট মোকাবিলায় এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের হাতে আপাতত তেমন কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক সংলাপে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে গ্যাস উত্তোলন করেও সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্যাসও টার্মিনালের মাধ্যমে খালাস করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তাই বিদেশি প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ শেষ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি লোডশেডিং এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, যাতে শিল্পকারখানায় যতটা সম্ভব গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর থেকেই বর্তমান সংকটের সূত্রপাত। যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি মেরামতের কাজ করছেন। মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। এ কারণে পুরো সিস্টেম প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। তখন দেশে সাময়িকভাবে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় ২০২৯ সালের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস কারখানায় সরবরাহের জন্য একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির বলেন, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশের জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশের ব্যবহৃত বিদ্যুতের ৮৪ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। তিনি দ্রুত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার সুপারিশ করেন।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তৈরি পোশাক খাতের অর্ডার হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে। শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি ‘রেসকিউ প্যাকেজ’ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, সাময়িক সমাধানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য অন্তত ১০ বছর মেয়াদি সমন্বিত নীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশের অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দ্রুত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ ও স্টোরেজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়, সিস্টেম লস কমানো এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au