বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বা একিউআইএস নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের জন্য নতুন সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- চট্টগ্রাম নগরে গ্যাসের তীব্র সংকটে একসঙ্গে থমকে গেছে পরিবহন, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির স্বাভাবিক জীবন। সিএনজি স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকেরা, রান্নার চুলায় মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। অন্যদিকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগরজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং। সব মিলিয়ে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকটের তীব্র চাপ।
সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরে মুষলধারে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির মধ্যেই কর্ণফুলী প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে টানা ছয় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ মঞ্জুর (৪০)।
ফিরিঙ্গী বাজার থেকে যানজট পেরিয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর সময় তাঁর আশা ছিল দ্রুত গ্যাস নিয়ে আবার সড়কে ফিরবেন। কিন্তু স্টেশনের সামনে শত শত গাড়ির দীর্ঘ সারি তখনও এক ইঞ্চিও এগোয়নি।
গাড়ির ছাদে বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে হতাশা মিশিয়ে মঞ্জুর বলেন, ‘সকাল ৬টায় এসে লাইনে দাঁড়াইছি। এখন দুপুর ১২টা বাজে। শুরুতে নাকি অল্প গ্যাস ছিল, এখন চাপ একেবারেই নাই, পাম্পও বন্ধ। দিনটাই শেষ। কীভাবে গাড়ি চালাব, জানি না।’
চট্টগ্রামের গত কয়েক দিনের চিত্র যেন মঞ্জুরের এই কথাতেই ফুটে উঠেছে। গ্যাস সংকটে পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শিল্পকারখানা পর্যন্ত নানা খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং যুক্ত হয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি, জিইসি মোড় থেকে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি, জিইসি মোড় থেকে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনগুলোর সামনে অটোরিকশা ও মিনিবাসের দীর্ঘ সারি থাকছে।
স্টেশন মালিকদের ভাষ্য, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। চাপ কিছুটা বাড়লে পাম্প চালু করা হচ্ছে। আবার চাপ কমে গেলে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।ফলে একজন চালককে একটি ট্রিপ দেওয়ার আগেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে, অন্যদিকে যাত্রীরা পড়েছেন বাড়তি ভাড়ার চাপে।
পরিবহন সংকটে বাড়তি ভাড়া
গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক গণপরিবহন গ্যারেজে পড়ে আছে। সড়কে পর্যাপ্ত বাস ও সিএনজি অটোরিকশা না থাকায় নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কোনোভাবে সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া।এনজিওকর্মী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (৪০) বলেন, ‘সকাল ১০টায় অফিসে পৌঁছানোর কথা। অথচ এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা নেই। যেগুলো আসছে, সেগুলোতে ওঠার মতো অবস্থা নেই। মানুষ দরজায় ঝুলছে।’
তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে সিএনজি অটোরিকশা নিতে গেলাম। অন্য সময়ে বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ যেতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া লাগে। এখন চালকেরা সরাসরি ৩০০ টাকা দাবি করছেন। এই সুযোগসন্ধানী চালকদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।’মুরাদপুর থেকে কোতোয়ালির দিকে যাচ্ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা ও অভিভাবক শারমিন সুলতানা। সঙ্গে ছিল তাঁর ছোট সন্তান।
তিনি বলেন, ‘সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। যে দু-একটি খালি গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, ভাড়া শুনে মনে হচ্ছে দূরপাল্লার বাসে উঠছি। গ্যাস নেই, সেটা বুঝলাম। কিন্তু এর দায় সাধারণ মানুষকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে কেন মেটাতে হবে?’কোতোয়ালি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (৫০) বলেন, প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পেলেও চালক মোড় ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করেন।
চালকের যুক্তি ছিল, ‘সাত ঘণ্টা পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে যে সময় নষ্ট করেছি, সেই টাকা কে দেবে?’
চালকদেরও আয় কমেছে
তবে চালকদের বক্তব্য, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার পেছনে শুধু সুযোগ নেওয়ার মানসিকতা নয়, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে আয় কমে যাওয়াও বড় কারণ।
নগরের ৩ নম্বর রুটের মিনিবাসচালক মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘গ্যাসের দাম তো নতুন করে বাড়েনি। আমরাও বাড়তি টাকা নিতে চাই না। কিন্তু একটি ট্রিপ দেওয়ার আগে সাত থেকে আট ঘণ্টা পাম্পে বসে থাকতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই সময়ে তিন-চারটি ট্রিপ দেওয়া যেত। এখন সেই সময়টা পাম্পের লাইনে চলে যাচ্ছে। গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতে হবে, ডাল-ভাত তো খেতে হবে।’
অটোরিকশাচালক মো. জামশেদ আলমও একই সমস্যার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যে আয় হতো, এখন দিনের ৭ থেকে ৮ ঘণ্টাই গ্যাসের পেছনে চলে যাচ্ছে। ফলে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রান্নাঘরেও গ্যাসের সংকট
গ্যাসের সংকট শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ নেই। নগরের বাসাবাড়িতেও এর প্রভাব পড়েছে।

আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা আয়শা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করতে গেলেই চুলায় গ্যাসের চাপ পাওয়া যায় না। ছবি: সংগৃহীত
আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা আয়শা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করতে গেলেই চুলায় গ্যাসের চাপ পাওয়া যায় না। কখনো চুলা নিভু নিভু করে জ্বলছে, আবার কখনো একেবারেই জ্বলছে না।
তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হচ্ছে। তার ওপর দিনে ১০ বারের বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার গেলে দুই ঘণ্টার আগে আসে না। আমরা একপ্রকার হাঁপিয়ে উঠেছি।’
মুরাদপুরের গৃহিণী কুলসুম আক্তার জানান, গ্যাস না থাকায় বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে এই অতিরিক্ত খরচও পরিবারের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করেছে।
শিল্পকারখানায় উৎপাদন নেমেছে
চট্টগ্রামের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শিল্পখাতও গ্যাস সংকটে বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের রড উৎপাদন কারখানা, পোশাক শিল্প, জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড ও স্টিল স্ট্রাকচার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন অনেকাংশে কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক সক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।দেশের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন সেনগুপ্ত বলেন, গত প্রায় ২০ দিন ধরে তাঁরা প্রয়োজনীয় পরিমাণে গ্যাস পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ‘সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে কারখানা পুরোপুরি চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশও পূরণ করা যাচ্ছিল না। এতে বিপুল লোকসান হচ্ছে। গ্যাস না থাকলে কারখানা চালু রাখা একরকম অসম্ভব।’
বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও।
রাউজান ও আনোয়ারা এলাকার একাধিক ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ছাড়া ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
ফলে চট্টগ্রামজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।
পাঁচ মাস ধরে বন্ধ সিইউএফএল
গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদনও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার উত্তম চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনায় গত ৪ মার্চ থেকে প্রায় পাঁচ মাস ধরে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) থেকে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয়।দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের কৃষি খাতে সার সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
সংকটের নেপথ্যে এলএনজি সরবরাহে বিপর্যয়
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর।মহেশখালীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং দেশের সামিট গ্রুপ পরিচালিত দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে।
তবে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি দল টার্মিনালটি মেরামতের কাজ শুরু করে।দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে সচল হয়। তবে সরবরাহের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজিবাহী একটি নতুন কার্গো জাহাজ এলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটিকে টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, উত্তাল সাগরের কারণে এলএনজিবাহী জাহাজটি পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাচ্ছে না।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন এলএনজি সরবরাহ অন্তত ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে বলে জানান তিনি।নাছির উদ্দিন বলেন, কার্গো সেটআপের কাজ পুরোপুরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। সাগর কিছুটা শান্ত হলে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ
কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন প্রকৃত গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া যেত প্রায় ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে সাম্প্রতিক সংকটে সেই সরবরাহ কমে বর্তমানে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।
অর্থাৎ বর্তমান সরবরাহ ও চাহিদার তুলনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ৪৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় পুরো বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সংযোগ বজায় রাখতে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন।’

চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা ও যোগানের মাঝে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে।ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় পর্যায়েও চাহিদা-সরবরাহে বড় ঘাটতি
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
এই ঘাটতি পূরণে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে চট্টগ্রামের মতো শিল্পনির্ভর অঞ্চলে।
কবে কাটবে সংকট?
সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রামের বর্তমান গ্যাস সংকট দ্রুত কাটাতে হলে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি উত্তাল সাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসের কাজও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে হবে।
আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামবাসীর এই ভোগান্তি দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে একসঙ্গে পরিবহন, বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান না হলে চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও জনজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au